রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের সময় ইরানের নৌবাহিনীর গুলির মুখে পড়ে দুটি ভারতীয় জাহাজ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। জাহাজগুলোর একটি ছিল ভারতীয় পতাকাবাহী একটি ভিএলসিসি সুপারট্যাংকার, যা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি তেল বহন করছিল।
এই ঘটনার মাধ্যমে ইরান জানিয়ে দিলো, হরমুজ এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে। তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করতে পারবে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স কয়েকটি শিপিং সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আজ শনিবার হরমুজ প্রণালি এলাকায় অবস্থানরত বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে রেডিও বার্তা পায়। ওই বার্তায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো জাহাজকেই এই পথ অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে না।
ব্রিটিশ সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, রেডিও বার্তার পরপরই একটি তেলের ট্যাংকার লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গানবোট থেকে গুলি চালানো হয়। ওমান উপকূল থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে ট্যাংকার ও এর ক্রু সদস্যরা নিরাপদ আছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে আজ সকালে মেরিটাইম ট্র্যাকারগুলোতে দেখা যায়, আটটি তেলের ট্যাংকারের একটি বিশাল বহর হরমুজ অতিক্রম করছে। সাত সপ্তাহ আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল বড় কোনো নৌযানের প্রথম প্রকাশ্য চলাচল। কিন্তু এই স্বস্তির রেশ বেশিক্ষণ টেকেনি।
ঘটনার অডিও রেকর্ডিংয়ে জাহাজগুলোর ক্যাপ্টেনদের বলতে শোনা যায়, তারা প্রণালি অতিক্রমের জন্য অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে ইরানের নৌবাহিনী থেকে জানানো হয়, বর্তমানে এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি নেই।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী ট্যাংকারগুলোকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে কোনো জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না।
এর আগে, ইরানের সামরিক বাহিনী ঘোষণা দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নিলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘শত্রুদের নতুন পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘‘ইরানের সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘দুর্বলতা ও অপমান’ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। ইরানের ড্রোন যেমন দ্রুতগতিতে হামলা চালাতে সক্ষম, তেমনি দেশটির নৌবাহিনীও শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।’’
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা শুরু করতে পারে।
আরও পড়ুন: আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করলো ইরানের সামরিক বাহিনী
