চাঁদের কক্ষপথে ১০ দিনের ঐতিহাসিক যাত্রা শেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ এর নভোচারীরা। আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৭ মিনিটের দিকে আর্টেমিস-২ এর ৪ নভোচারী যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে নিরাপদে অবতরণ করেন।
মিশনের চার নভোচারী হলেন-কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কোচ ও জেরেমি হ্যানসেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে নিরাপদে অবতরণের পর নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ক্যাপসুলের অবস্থান ও নভোচারী দলের স্বাস্থ্যের বিষয়ে বলেছেন, ‘আমরা স্থিতিশীল অবস্থায় আছি।’
নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জ্যারেড আইজ্যাকম্যান নভোচারী দলের সফল অবতরণের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমরা আবারও নভোচারীদের চাঁদে পাঠানো এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনার কাজে ফিরে এসেছি। এটি কেবলমাত্র শুরু।’
তবে তাদের ফিরে আসা নিয়ে আগে থেকেই ব্যাপক শঙ্কা কাজ করছিল বিজ্ঞানীদের মনে। কারণ মহাশূন্যে ফিরতি যাত্রায় সবচেয়ে কঠিন ও বিপজ্জনক পর্যায় পার করতে হয়।
স্পেস ডটকম লিখেছে, পৃথিবীর দিকে যাত্রার সবচেয়ে ভয়ংকর অংশটি হলো ঘণ্টায় প্রায় ২৪ হাজার মাইল (৩৮ হাজার ৬০০ কিলোমিটার) বেগে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আসতে হয়, যা শব্দের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি গতির যাত্রা। এই যাত্রার মধ্যে রয়েছে ১৩ মিনিটের এক ‘অগ্নিময় অবতরণ’। নভোচারীরা এ সময় প্রায় পাঁচ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট (দুই হাজার ৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রার মুখে পড়েন। নিজেদের সুরক্ষার জন্য তাদের হিট শিল্ড এবং গতি কমানোর জন্য প্যারাসুট ছিল।
হিট শিল্ড হলো মহাকাশযানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ, যা মহাকাশযান এবং এর নভোচারীদের পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় চরম তাপমাত্রা থেকে রক্ষা করে। যদি হিট শিল্ডটি বিকল হয়ে যায়, তবে মিশন ও এর ক্রুরা ভস্ম হয়ে যাবে।
বিবিসি জানিয়েছে, একটি সাধারণ কিন্তু উদ্বেগজনক ৬ মিনিটের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার পর নভোচারীরা সফলভাবে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করেন। চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণ শেষে মহাকাশযানটি বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্য দিয়ে নভোচারীদের চাঁদে যাওয়া ও ফিরে আসার ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৪৮১ মাইল (১১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫৯ কি.মি.) দীর্ঘ যাত্রা সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল চাঁদ প্রদক্ষিণের সময় মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে তার সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার (২ লাখ ২ হাজার ৭৫৬ মাইল) দূরত্বে পৌঁছায়, যা মহাকাশে মানুষের ভ্রমণের পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে দেয়।
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযান গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়। চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করার লক্ষ্য নিয়ে চার নভোচারী ওরিয়ন নামের মহাকাশযানে চড়ে রওনা করেন। মহাকাশযান উৎক্ষেপণ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পাস করেছে আর্টেমিস-২। অভিযানে অংশ নেওয়া রকেট, মহাকাশযান ও নভোচারীদের সাফল্য যেন হার মানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কল্পনাকেও।
এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে আর্টেমিস-১ অভিযান পরিচালনা করেছিল নাসা। তবে ওই অভিযানে কোনো মানুষকে পাঠানো হয়নি, শুধু মহাকাশযান গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ভয়ংকর গ্রহাণু, বিপদে পড়তে পারে বাংলাদেশও
