, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের সেই পাইলটকে উদ্ধার করেছেন মার্কিন সেনারা


যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন এলিট উদ্ধার দল। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৪৩ : পূর্বাহ্ণ

ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে ভূপাতিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ দ্বিতীয় পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা। ওই পাইলটকে ইরান থেকে বের করে নিয়ে গেছেন তারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, প্রিয় মার্কিন নাগরিকবৃন্দ আমরা তাকে খুঁজে পেয়েছি। তবে উদ্ধার হওয়া পাইলট সামান্য আহত হয়েছে। গত কয়েক ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের ইতিহাসের অন্যতম সাহসী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লিখেছেন, এই অভিযানটি ছিল আমাদের এক অসাধারণ ক্রু সদস্য কর্মকর্তাকে উদ্ধারের জন্য, যিনি একই সঙ্গে একজন অত্যন্ত সম্মানিত কর্নেল। আপনাদের জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে তিনি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

ওই পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করছিল জানিয়ে ট্রাম্প লিখেন, তাকে উদ্ধারে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল। এসব যুদ্ধবিমানে ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক মরণঘাতি অস্ত্র।

খবরে বলা হয়েছে, যাকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনি ভূপাতিত বিমানের ‘ওয়েপন সিস্টেম অফিসার’ ছিলেন। বিমানটি ইরানি সেনারা বিধ্বস্ত করার পর সেটি থেকে বের হয়ে যেতে সমর্থ হন তিনি। ওই সময় আঘাত পান এ বিমান সেনা। কিন্তু তার হাঁটার শক্তি ছিল।

গত ৩ এপ্রিল সকালে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এই যুদ্ধবিমানে দুজন ক্রু ছিলেন। এরমধ্যে একজন পাইলট। অপরজন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের কাজ করেন। যেদিন বিমানটি ইরান ভূপাতিত করে ওইদিনই এক ক্রুকে উদ্ধার করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা। এরপর দ্বিতীয় ক্রুকে খুঁজতে গতকাল শনিবার ইরানের অভ্যন্তরে এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ এবং ‘শ্বাসরুদ্ধকর’ উদ্ধার অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত বাহিনী।

এই বিশেষ ধরনের অভিযানকে সামরিক পরিভাষায় ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ (সিএসএআর) বলা হয়, যা আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম জটিল এবং সময়সাপেক্ষ সামরিক অপারেশন। সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে এর মূল পার্থক্য হলো-এটি দুর্যোগপূর্ণ মানবিক পরিবেশে নয়, বরং সরাসরি শত্রুভাবাপন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিচালিত হয়। যখন কোনো পাইলট বা সৈন্য শত্রু শিবিরের সীমানায় বা দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন, তখন তাদের জীবিত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনাই এই মিশনের মূল লক্ষ্য। ইরানে শুক্রবারের এই উদ্ধার অভিযানটি সরাসরি শত্রুপক্ষের রাডার এবং বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার নজর এড়িয়ে পরিচালিত হয়।

 

এর আগে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরই দুই ক্রুকে উদ্ধারে সেখানে নজরদারি বিমান উড়ানো শুরু করে মার্কিনিরা। এ ছাড়া একটি হেলিকপ্টার দিয়েও পাইলটকে উদ্ধারে চেষ্টা করে তারা। তবে ইরানি সেনাদের হামলার মুখে হেলিকপ্টারটি পিছিয়ে যায়।

এই বিমান বিধ্বস্তের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছিল পুরো দুঃস্বপ্নের মতো। কারণ বিমানের পাইলট ও অপর ক্রুকে ধরার জন্য অভিযান শুরু করেছিল ইরানের বিপ্লবী গার্ড। ওই মার্কিন পাইলটকে জীবিত ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ বিলিয়ন তুমান (প্রায় ৭৬ হাজার ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করে ইরান।

আরও পড়ুন: পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের রুদ্ধশ্বাস অভিযান, হন্যে হয়ে খুঁজছে ইরানও

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর