ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহ স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এই সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনায় অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্র ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনাটি কোনো পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন বা দখলদারিত্ব নয়; বরং বিশেষায়িত বাহিনী (স্পেশাল অপারেশন ফোর্সেস) এবং সাধারণ পদাতিক সেনাদের সমন্বয়ে ঝটিকা অভিযান বা রেইড চালানোর প্রস্তুতি।
বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসরমান জাহাজগুলোতে ৪,০০০-এর বেশি মার্কিন মেরিন সেনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্যারাসুট সেনারাও প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, স্থল হামলার যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে সেটি ‘যুদ্ধে নতুন ধাপ’ সৃষ্টি করতে পারে। যেটি মার্কিন সেনাদের জন্য যুদ্ধ শুরুর সময়ের চেয়ে আরও বেশি বিপজ্জনক হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেছেন, এই স্থল হামলা অন্য সাধারণ স্থল হামলার মতো হবে না। এর বদলে ইরানে স্পেশাল ফোর্স এবং কামান সেনারা রেইড দেবে। তবে এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ড্রোন, মিসাইল এবং গুলির মুখে পড়তে পারেন বলে সতর্কতা দিয়েছেন এই কর্মকর্তারা।
অভিযানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের কথা ভাবা হচ্ছে। ইরান তাদের উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমেই রপ্তানি করে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতেই এই কৌশলগত অবস্থানটিকে টার্গেট করা হতে পারে। অভিযানের মেয়াদ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে; কেউ বলছেন এটি কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে, আবার অন্য একটি সূত্রের মতে এটি কয়েক মাস স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউজে যোগাযোগ করেছিল ওয়াশিংটন পোস্ট। সংবাদমাধ্যমটিকে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট বলেছেন, “প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো প্রস্তুতি নেওয়া। যেন কমান্ডার ইন চিফ (প্রেসিডেন্ট) সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পারেন। পরিকল্পনা করার অর্থ নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে স্থল হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্টের পক্ষ থেকে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ করা হলেও চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করলো ইরান, জাহাজ চলাচলে কড়া হুঁশিয়ারি
