, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করলো ইরান, জাহাজ চলাচলে কড়া হুঁশিয়ারি


হরমুজ প্রণালি। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তেল পাঠায় সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২৭ মার্চ, ২০২৬ ৬:৪৬ : অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সমুদ্রপথে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। আজ শুক্রবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইরানের হরমুজ বন্ধের এই ঘোষণা এলো। যুক্তরাষ্ট্রে ইরান ও পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং ইরানের কাছাকাছি ওই বাড়তি সেনা মোতায়েন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে জাহাজগুলোকে ‘কঠোর ব্যবস্থা’র মুখে পড়তে হবে।

আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এবং তাদের সমর্থক দেশগুলোর কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালির কোনো করিডোর ব্যবহার করে চলাচল করতে পারবে না কিংবা কোনো গন্তব্যে যেতে পারবে না।

এ ঘোষণার পর বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী অন্তত তিনটি কনটেইনার জাহাজ সতর্কবার্তা পেয়ে দিক পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত কৌশলগত পানিপথ হরমুজ প্রণালি। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবাহিত হয়। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তেল পাঠায় সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত। সরু এ সামুদ্রিক পথটি ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরকে যুক্ত করেছে।

 

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। সেকারণে বিশ্ব জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও কূটনৈতিক তৎপরতা পুরোপুরি থেমে নেই। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে এবং সংঘাত নিরসনে প্রতিনিধিদের শিগগিরই পাকিস্তানে বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে নতুন সময়সীমা দিচ্ছেন তিনি। তা না হলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। এর আগে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাব ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে ইরান।

আরও পড়ুন: ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর