, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করলো মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:০২ : অপরাহ্ণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় সময় শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের এক আদেশে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে একতরফাভাবে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করার মাধ্যমে ট্রাম্প ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ শুল্কনীতি ছিল তার পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রীয় অংশ।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার রায়ে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে কর ও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কংগ্রেসকে, প্রেসিডেন্টকে নয়। অস্বাভাবিক ক্ষমতার চর্চা হিসেবে শুল্ক আরোপের জন্য প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ‘স্পষ্ট অনুমোদনের’ প্রমাণ দিতে হবে। কিন্তু তিনি তা পারেননি।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হেরে গেলে ট্রাম্পের বিকল্প পরিকল্পনা কী হবে, তা নিয়ে আগেই আলোচনা ছিল। ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, হেরে গেলে তার কাছে ‘গেম টু’ পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা এখন বিকল্প আইনি পথ খুঁজছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-সেকশন ২৩২, এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু নির্দিষ্ট পণ্যে শুল্ক রাখা যাবে। সেকশন ৩০১, ‘অন্যায্য বাণিজ্য নীতি’র বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে শুল্ক আরোপে বৈধতা দেবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আইইইপিএ-এর মতো এত ব্যাপক ও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলার ক্ষমতা এই বিকল্প আইনগুলোর নেই।

 

ট্রাম্পের এই শুল্কের মাধ্যমে আগামী ১০ বছরে ট্রিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পেন-ওয়ার্টন বাজেট মডেলের অর্থনীতিবিদদের মতে, আইইইপিএ-এর আওতায় এ পর্যন্ত সংগৃহীত শুল্কের পরিমাণ প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আদালতের এই রায়ের ফলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে।

এর আগে গত মে মাসে একটি নিম্ন বাণিজ্য আদালত রায় দিয়েছিল যে, ট্রাম্প ঢালাওভাবে শুল্ক আরোপ করে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং এর অধিকাংশ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সরকারের আপিলের কারণে এতোদিন সেই সিদ্ধান্তটি স্থগিত ছিল।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাণিজ্য ঘাটতিকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে এবং চীন, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে ফেন্টানিল ও মাদক পাচার রোধে ব্যর্থতার অজুহাত দেখিয়ে এই শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এই শুল্ক ছাড়া আমেরিকা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং বিশ্ব আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করবে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে পৃথিবীকে ১৫০ বার ধ্বংস করা সম্ভব: ট্রাম্প

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর