রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশের সময় : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় স্থানীর সরকার নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দিয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এই পরিপ্রেক্ষিতে তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী সপ্তাহে কমিশনের সভায় ঠিক হবে নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনাও।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি তোলে জামায়াতসহ তাদের মিত্ররা। পরে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার মুখে আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন থেকে সরে আসে ড. ইউনূস সরকার।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে নিরঙ্কুশ জয় লাভের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠন করে বিএনপি। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠন হয় নতুন মন্ত্রিসভা। ওইদিন বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর মধ্য দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদায় ঘটে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের।
আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যেই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর প্রথম সভা হয় ২০২০ সালের দোসরা জুন। সে হিসেবে দক্ষিণ সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ১ জুন। আর ঢাকা উত্তর সিটির প্রথম সভা একই বছরের ৩ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ২ জুন। আর চট্টগ্রাম সিটির ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে চিঠি পেয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রস্তুতিও এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আমরা হয়তোবা আাগমী সপ্তাহের মধ্যে কমিশনে বৈঠক করে বিস্তারিত পরিকল্পনা নেবো।
তিনি আরও বলেন, অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং দক্ষদেরই এই নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেমন আমরা প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করতে পেরেছি, ভবিষ্যতেও আরও নিরপেক্ষতার প্রমাণ আমরা রাখবো।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকারের মেয়র, কাউন্সিল, চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের ফলে অন্তবর্তী সরকার ১২ সিটি কর্পোরেশন, ৩৩০ পৌরসভা, ৩৯৭ উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন: চাঁদার ‘নতুন সংজ্ঞা’ দিলেন পরিবহনমন্ত্রী, সমালোচনার ঝড়
