রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
পুলিশের আইজি বাহারুল আলম পদত্যাগ করেছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এমন খবরও এখন মুখে মুখে।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ রোববার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকে বাহারুল আলম পদত্যাগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে কবে থেকে তা কার্যকর হবে, তা জানা যায়নি।
তবে আজ সন্ধ্যায় আইজিপি বাহারুল আলম সংবাদমাধ্যমে পাঠানো খুদে বার্তায় দাবি করেছেন, তিনি পদত্যাগ করেননি।
পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সকালে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই আইজিপি পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা সবাইকে জানান। এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তারা তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন।
বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিস্ময় দেখা দেয় এবং খবরটি বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের অনুরোধে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন বলে জানা গেছে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে আইজিপি তার সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন।
এ বিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে রদবদল হয়। এর ধারাবাহিকতায় সে বছর ২১ নভেম্বর বাহারুল আলমকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে ২০২০ সালে তিনি পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরে গিয়েছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে আইজিপি পদে নিয়োগ দেয়। সে অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ নভেম্বর তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।
সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে আইজিপির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পর সেসময় বাহারুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সরকার। তবে নির্বাচনের আগমুহূর্তে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে যায় সরকার।
বি.দ্র: সংবাদটিতে নতুন তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কর্মকর্তারা নিজে সিল মেরেছেন, রেজাল্ট শিট ঘষামাজা করেছেন
