মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদেশের নেতৃত্বকে মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলে চলতি সপ্তাহেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার অনুমোদন দিতে পারেন। অনুমোদন হলে আজ রোববার থেকেই ইরানে হামলা শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ড্রপ সাইট নিউজ।
ড্রপ সাইট নিউজকে দেওয়া এক বক্তব্যে সাবেক এক শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নয়। এটা মূলত সরকার পরিবর্তনের বিষয়।’
এই কর্মকর্তা বর্তমানে আরব সরকারগুলোর পরামর্শক এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা নিশ্চিত করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছেন। সেইসঙ্গে ইরানি সরকারের ‘শিরশ্ছেদ’ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নেতৃত্ব ও সক্ষমতা ধ্বংস করা।
সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্বাস,ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে সফল হামলা হলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করবে। এতে শেষ পর্যন্ত সরকার উৎখাত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে হামলার আশা ব্যক্ত করছেন। তিনি ট্রাম্পকে নিশ্চিত করেছেন যে ইরানে নতুন সরকার আনতে তারা সহযোগিতা করতে পারবে এবং এই নতুন সরকার পশ্চিমাদের বন্ধু হবে।
ড্রপ সাইট নিউজ দুইজন সিনিয়র আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, তারা খবর পেয়েছেন যে ইরানে মার্কিন হামলা ‘যেকোনো মুহূর্তে’ শুরু হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ ঠেকাতে তৎপর কূটনৈতিক উদ্যোগ চালাচ্ছে। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্কের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যাতে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা যায়।
এ ছাড়া ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক-এই তিন দেশের মধ্যে একটি গোপন বৈঠকের কাঠামো তৈরির চেষ্টা চলছে। উদ্দেশ্য একটাই—আসন্ন হামলা ঠেকানো। এরই মধ্যে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন হামলায় নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানায়, মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে ফোনালাপে এই অবস্থান জানানো হয়।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ‘পরীক্ষা’ নিতে চাইলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান: আরাগচি
