, | |

মূলপাতা রাজধানী

হাদির হত্যাকারী দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, স্বীকার করলো পুলিশ


ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলার অভিযুক্ত দুই আসামি শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১:১৩ : অপরাহ্ণ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারী শ্যুটার ফয়সাল ও মোটরসাইকেল চালক মো. আলমগীর শেখ ময়মনসিংহের সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম। আজ রোববার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার পরপরই ঢাকা মহানগর পুলিশ, ডিবি, সিটিটিসি, র‌্যাব, সিআইডি, বিজিবি ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে ও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার দিনই শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ দাউদ ওরফে রাহুল এবং তার সহায়তাকারী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখকে শনাক্ত করা হয়। তাৎক্ষণিক তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম সাভার, হেমায়েতপুর, আগারগাঁও ও নরসিংদীতে অভিযান পরিচালনা করে। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ডিএমপির একটি টিম ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের সীমান্তবর্তী এলাকা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে।

নজরুল ইসলাম বলেন, তদন্তে প্রাপ্ততথ্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া জবানবন্দি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ফয়সাল ও আলমগীর ঘটনার পরপরই ঢাকা থেকে সিএনজি করে আমিনবাজারে যায়। পরে তারা মানিকগঞ্জের কালামপুরে যায়। সেখান থেকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি প্রাইভেটকারে করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছে। ঘটনাটি তাদের পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। এই জন্য তাদের চিহ্নিত করার পূর্বেই তারা সীমান্ত পাড়ি দিতে সক্ষম হয়।

 

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, হালুয়াঘাটের পূর্বে মুনফিলিং স্টেশনে জনৈক ফিলিপ এবং সঞ্জয় তাদেরকে গ্রহণ করার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। ফিলিপ তাকে সীমান্ত পার করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে জনৈক পুত্তির কাছে হস্তান্তর করেন। পুত্তি এক ট্যাক্সি ড্রাইভার সামির কাছে তাদেরকে হস্তান্তর করেন। সামি মেঘালয় রাজ্যের তুরা নামক একটি শহরে তাদেরকে পৌঁছে দেয়। আমরা ইনফরমাল চ্যানেলে মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে যেটি জানতে পেরেছি তারা ইতোমধ্যে পুত্তি ও সামিকে গ্রেফতার করেছে।

নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা সন্দেহ করি আসামিদ্বয় অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছেন। এই ঘটনার সঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছয় জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন এবং চারজন সাক্ষী ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছিল উল্লেখ করে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ডিএমপি এই মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৬ জন ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে খুনের বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। সোনা বা অন্য কোনো সম্পদ নয়, বরং পূর্ব-শত্রুতার জেরে এই হত্যার কথা স্বীকার করেছে তারা।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরের পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান এই বিপ্লবী।

আরও পড়ুন: এক সাহসী কণ্ঠের প্রস্থান

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর