রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশের সময় : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ মোড়। সেখানে অবরোধ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগে এসে অবস্থান নেন। সন্ধ্যার পর থেকে সেখানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার পর সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের চারদিকেই বিক্ষোভকারীদের অবস্থান। এতে শাহবাগ দিয়ে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে আশপাশের কয়েকটি সড়কে সীমিত আকারে যান চলাচল করতে দেখা গেছে।
অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না তারা। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

অবরোধ কর্মসূচিতে শহীদ ওসমান হাদির ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি বলেন, সরকারের আচরণে বিচার নিয়ে আন্তরিকতার অভাব দেখা যাচ্ছে। ওসমান হাদির বিচারের প্রশ্নটি এখন সারাদেশের মানুষের দাবি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত ঘরে না ফেরার ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন।
আন্দোলনকারীদের স্লোগানে স্লোগানে শাহবাগ মোড় উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভকারীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ্য হাদি লড়াই করে’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।
এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান সংগঠনের নেতারা।
শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক ও শিক্ষক। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। হাদি জুলাই শহীদদের অধিকার রক্ষা ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলন এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সক্রিয় রাজনীতির জন্য আলোচনায় আসেন।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরের পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান এই বিপ্লবী।
আরও পড়ুন: হাদিকে নিয়ে পোস্ট করায় আসিফ মাহমুদের পেজ রিমুভ
