জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে আজ বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাষণে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ওইদিন সকল সরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে দূতাবাসে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। শুক্রবার দেশের মসজিদ, মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ে হাদির জন্য প্রার্থনা করা হবে। সবাই আপনারা শরিক হবেন।
ওসমান হাদির সন্তান ও স্ত্রীর দায়িত্ব সরকার নেবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই বিষয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামে শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন এক অকুতোভয় সৈনিক। দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে তার প্রয়াণ এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। এবং শোকসন্তপ্ত স্ত্রী, সন্তান, পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন প্রতিবাদের এক আইকন। তার কর্ম ও সাহস দেশের তরুণদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ছিল তার, যা অপূর্ণই থেকে গেলো।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই শোকের মুহূর্তে সবাইকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখতে হবে, গুজব ও অপপ্রচারে কান না দেয়া এবং ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যেতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি আজ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
