, | |

মূলপাতা আইন-আদালত

হাসিনার কী রায় হবে, ট্রাইব্যুনাল থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি


ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১:০৩ : অপরাহ্ণ

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আগামীকাল সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পতিত স্বৈরশাসক হাসিনার বিরুদ্ধে কী রায় হবে, সেদিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।

এদিকে ট্রাইব্যুনাল থেকে মামলার রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স বিটিভি থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া প্রচার করা হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজেও।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আবারও ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হবে। এছাড়া হাসিনাসহ অন্য আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেগুলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার আবেদন করা।

ট্রাইব্যুনালের এই পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি এবং সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছি।’

এর আগে গত ১৩ নভেম্বর জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা এই মামলায় গত ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক এবং চৌধুরী মামুন কারাগারে রয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গত ২৩ অক্টোবর সর্বশেষ যুক্তি উপস্থাপনকালে এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ এনে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ সাজার (মৃত্যুদণ্ড) আবেদন জানান। তবে পুলিশের সাবেক আইজি মামুনের শাস্তির বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দিয়েছে প্রসিকিউশন। অপরদিকে আসামিদের নির্দোষ দাবি করে তাদের খালাস চেয়েছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী।

চলতি বছরের ১ জুন এই মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে ১৬ জুন নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। বিজ্ঞপ্তি জারির পরও হাজির না হওয়ায় ২৪ জুন তাদের দুজনের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮-এর সাবেক বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর ও আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী আমির হোসেনকে নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, প্রতক্ষ্যদর্শীসহ ৫৪ জন। অডিও, ভিডিও, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, জব্দ করা গুলি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।

গত ২৩ অক্টোবর মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেন।

পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনিও শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি চান।

আরও পড়ুন: হাসিনাসহ ৩ আসামির মামলার রায় ১৭ নভেম্বর

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর