জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে গণভোট চায় সব দলই। তবে সেই গণভোট আগে হবে নাকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সেটা নিয়ে বিরোধ ছিল। এই অবস্থায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জাতীয় নির্বাচনের আগে আলাদাভাবে গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করেছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা তুলে দেন জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের অন্য সদস্যরা।
সুপারিশমালা থেকে জানা যায়, তিন ধাপে আইনি ভিত্তি দেওয়া হবে জুলাই জাতীয় সনদের। প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করবে। এরপর সেই আদেশ নেওয়া হবে গণভোটে। গণভোটে পাস হলে নির্বাচিত সংসদ ২৭০ দিনের (৯ মাস) মধ্যে সেই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে৷ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে জুলাই সনদ সয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়নের বিধান রাখা হয়েছে সুপারিশে।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। বিএনপিসহ কয়েকটি দল জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে। জামায়াতসহ কিছু দল অবশ্য নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করেছে। এবার ঐকমত্য কমিশন নির্বাচনের আগে আলাদাভাবে গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করলো।
জুলাই সনদের প্রারম্ভিক ঘোষণায় স্পষ্ট করা হয়েছে, এ পদক্ষেপের মূল ভিত্তি হলো ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থান। এ অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই বাংলাদেশের জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে।
দীর্ঘ এক বছরের আলোচনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের যেসব উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার সম্বলিত জুলাই জাতীয় সনদ গত ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত হয়।
ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নেওয়া ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা এই রাজনৈতিক সমঝোতার দলিলে সই করেছেন।
তবে জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির ছাত্রনেতাদের নিয়ে গড়া রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাম ধারার চার দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ জাসদ ও বাসদ মার্কসবাদী জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি।
