ইসরায়েলি কারাগারে আটক আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে তুরস্কের সহায়তায় মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে আজই তাকে বিশেষ বিমানযোগে আঙ্কারায় নেওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে তুর্কি কর্তৃপক্ষ শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। আঙ্কারায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আমানুল হক গতকাল রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আজ শুক্রবার সকালে জানিয়েছে, শহিদুল আলমকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে আটক করার পর জর্ডান, মিসর ও তুরস্কে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহকে ওই সব দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে মুক্ত করার দ্রুত উদ্যোগ নিতে বলা হয়। দূতাবাসগুলো শহিদুল আলমের মুক্তির বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার শহিদুল আলমের প্রতিষ্ঠান দৃক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফিলিস্তিনের গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-এর একটি জাহাজ থেকে আটক বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ সব অধিকারকর্মীকে ইসরায়েলের কেৎজিয়েত কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর জোট ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন ও আদালাহ-দ্য লিগ্যাল সেন্টার ফর আরব মাইনরিটি রাইটস ইন ইসরায়েলের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছিল দৃক।
বিজ্ঞপ্তিতে দৃক জানায়, ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন ও আদালাহ-দ্য লিগ্যাল সেন্টার ফর আরব মাইনরিটি রাইটস ইন ইসরায়েলের (যারা অপহৃত ফ্রিডম ফ্লোটিলা অ্যাকটিভিস্টদের হয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন) মাধ্যমে জানা গেছে, আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমসহ ফ্রিডম ফ্লোটিলার নৌবহরের সব সাংবাদিক, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও জাহাজের ক্রুকে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ইসরায়েলের কেৎজিয়েত কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফ্লোটিলা অ্যাকটিভিস্টরা আদালাহর আইনজীবীদের জানিয়েছেন, জাহাজ দখল নেওয়ার পর থেকে তাঁরা ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী দ্বারা নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ফিলিস্তিনিরা প্রতিদিন একই রকম ও আরও ভয়াবহ সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। নাগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেৎজিয়েত কারাগারে প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী বন্দী রেখেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে দৃক বলেছে, ‘সব ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তি চাই, সব ফ্লোটিলা অ্যাকটিভিস্টের মুক্তি চাই। ফিলিস্তিন মুক্ত হবেই।’
গত ৮ অক্টোবর গাজা অভিমুখী ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের সবচেয়ে বড় জাহাজ কনশানসকেআটক করে ইসরাইলে। বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ ৯৩ জন অধিকারকর্মী জাহাজটিতে ছিলেন।
সেদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টার কিছু পর শহিদুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, ইসরায়েলিরা কনশানসের দিকে এগিয়ে আসছে।’ আরেক ভিডিও ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘ইসরায়েলিরা এগিয়ে আসছে।
পরে বাংলাদেশ সময় সকাল সোয়া ১০টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট করা এক ভিডিওবার্তায় দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, আমি শহিদুল আলম, বাংলাদেশের একজন আলোকচিত্রী ও লেখক। আপনারা যদি এই ভিডিও দেখে থাকেন, তাহলে শুনুন, আমাদের সাগরে আটকে দেওয়া হয়েছে এবং আমাকে ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী অপহরণ করেছে। এরা সেই দেশের বাহিনী, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা নিয়ে গাজায় জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে আমি আমার সব সহযোদ্ধা ও বন্ধুর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
আরও পড়ুন: আটকের পর শহিদুল আলম এখন কোথায়, জানালো ইসরায়েল
