রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময় : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
চিটাগাং চেম্বারকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ লতিফের ‘পরিবারতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রের’ কবল থেকে রক্ষা করতে গত বছরের ৫ আগস্টের পর আন্দোলন করেছিলেন বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীরা। তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে চেম্বারে লতিফের ‘পরিবারতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রের’ অবসান হয়। চেম্বার থেকে বিতাড়িত হয় আওয়ামী লীগপন্থী ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এক বছর পর পাল্টে গেলো দৃশ্যপট! সেই বিতাড়িত আওয়ামী লীগপন্থী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী নেতাদের অনেকে এ ঘটনাকে ‘বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য’ বলে মন্তব্য করছেন।
চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন ঘিরে কারাবন্দি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ লতিফের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী। তিনি চেম্বারের নির্বাচনে বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি প্যানেল দিচ্ছেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছোট ভাই।
চেম্বারের টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে এম এ লতিফের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন আমীর হুমায়ুন। রাজনীতি সংবাদের কাছে তিনি বিষয়টি অকপটে স্বীকারও করেছেন।
জানা গেছে, টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ এখনো চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ লতিফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই দুটি ক্যাটাগরি লতিফের ‘পকেট ভোট’ হিসেবে পরিচিত। টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হলেন লতিফের নিকটাত্মীয়। এ নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ‘চিটাগাং চেম্বারে মেম্বারশিপ নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতি’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
চেম্বার থেকে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ বাদ দিতে বিএনপিপন্থী দুই ব্যবসায়ী নেতা আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী ও নুরুল হক এবং জামায়াতপন্থী দুই ব্যবসায়ী নেতা ডা. একেএম ফজলুল হক ও শাহজাহান মহিউদ্দিন পৃথকভাবে প্রশাসককে চিঠি দিয়েছিলেন। পরে চেম্বার প্রশাসকের তদন্তের প্রেক্ষিতে গত ২০ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টাউন ও ট্রেড গ্রুপকে অকার্যকর করে দেয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর চেম্বার নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে বিতর্কিত টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ। কিন্তু আমীর হুমায়ুন চৌধুরী টাউন ও ট্রেড গ্রুপকে আবার অন্তর্ভুক্ত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শুনানি করেন চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনের আপিল বোর্ডের প্রধান নুসরাত সুলতানা। তিনি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্বে আছেন। চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিংয়ে নুসরাত সুলতানার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে টাউন ও ট্রেড গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ী আমীর হুমায়ুন ও জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ী শাহজাহান মহিউদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুনানিতে আমীর হুমায়ুন টাউন ও ট্রেড গ্রুপের জন্য তদবির করায় তার সঙ্গে শাহজাহান মহিউদ্দিনের তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। জামায়াতপন্থী এই ব্যবসায়ী টাউন ও ট্রেড গ্রুপের বিরোধিতা করেন। এরপর গতকাল রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) চেম্বার নির্বাচনের আপিল বোর্ড এই দুটি ক্যাটাগরিকে ভোটার তালিকাভুক্ত করে।
জানা গেছে, টাউন অ্যাসোসিয়েশনের চারটি প্রতিষ্ঠান ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে । এগুলো হলো-পটিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, রাঙ্গুনিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, হাটহাজারী অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বোয়ালখালী অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
পটিয়া অ্যাসোসিয়েশন থেকে ভোটার হয়েছেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের (বন্দর-পতেঙ্গা) আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এম এ লতিফের ছেলে ওমর মুক্তাদির। পটিয়ার ধৌরাডেঙ্গায় ‘জি ডি মৎস্য খামার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটার হিসেবে পটিয়া অ্যাসোসিয়েশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তিনি। অথচ তার বাড়ি হলো নগরীর খুলশী এলাকায়। নগরীতে বসবাস করে পটিয়া অ্যাসোসিয়েশন থেকে ভোটার হয়েছেন তিনি। চেম্বারের ২০২৩ সালের নির্বাচনে পটিয়া অ্যাসোসিয়েশন থেকে ভোটার হয়ে পরিচালক হয়েছিলেন আদনানুল ইসলাম। তিনি এম এ লতিফের আপন ভাগিনা।
রাঙ্গুনিয়া অ্যাসোসিয়েশন থেকে ভোটার হয়েছেন আবছার হাসান চৌধুরী জসিম। হাটহাজারী অ্যাসোসিয়েশন থেকে ভোটার হয়েছেন দুজন। এরা হলেন-আনিস উদ্দিন ও মোহাম্মদ মনির উদ্দিন। এদের মধ্যে মনির উদ্দিন হলেন লতিফের মেঝো সম্বন্ধীর (স্ত্রীর বড় ভাই) মেয়ের জামাই।
বোয়ালখালী অ্যাসোসিয়েশন থেকে ভোটার হয়েছেন সাজ্জাদ উন নেওয়াজ। তিনি চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি নুরুন নেওয়াজ সেলিমের ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি হলো ফেনীতে। কিন্তু তিনি বোয়ালখালী অ্যাসোসিয়েশনের ভোটার হয়েছেন।
অপরদিকে ট্রেড গ্রুপের ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো-চিটাগাং টায়ার টিউব ইমপোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ, চিটাগাং মিল্ক ফুড ইমপোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ এবং চিটাগাং ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যালস ইমপোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ।
চিটাগাং টায়ার টিউব থেকে ভোটার হয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।
চিটাগাং মিল্ক ফুড থেকে ভোটার হয়েছেন চারজন। এর মধ্যে রয়েছেন-পিএইচপি মোটর্সের প্রোপাইটার আকতার পারভেজ হিরু। তিনি পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের ছেলে।
চিটাগাং ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যালস থেকে ভোটার হয়েছেন পাঁচজন। এর মধ্যে রয়েছেন-স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ও সীকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমীরুল হক। মোস্তাফিজুর রহমান আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এম এ লতিফের বেয়াই। লতিফের দ্বিতীয় ছেলে ওমর খৈয়াম মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়েকে বিয়ে করেছেন। চিটাগাং ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যালস গ্রুপ নামের এই প্রতিষ্ঠানের সেক্রেটারি হলেন মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ের জামাতা ওমর খৈয়াম।
টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ থেকে তিনজন করে ছয়জন প্রার্থী পরিচালক পদে নির্বাচন করবেন। কিন্তু তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।
জানা গেছে, এম এ লতিফের ছেলে ওমর মুক্তাদির পটিয়া অ্যাসোসিয়েশন থেকে ভোটার হলেও নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না। লতিফের সঙ্গে আমীর হুমায়ুনের এ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।
টাউন ও ট্রেড গ্রুপের পক্ষে ভূমিকা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘সংঘবিধি অনুযায়ী, চেম্বারের সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচনে অর্ডিনারি ক্যাটাগরি থেকে একজন, অ্যাসোসিয়েট থেকে একজন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ থেকে একজন পরিচালক নিতে হবে। যদি টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ বাতিল করা হয় তাহলে চেম্বারের নির্বাচন কীভাবে হবে?’
বিএনপিপন্থী এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘আমাদের প্যানেল থেকে প্রথমে টাউন-ট্রেড গ্রুপ বাদ দেওয়ার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয় গেজেট করে এই দুটি ক্যাটাগরি বহাল রাখে। এরপর আমি রিট করে টাউন-ট্রেড গ্রুপ বাতিল করার জন্য হাইকোর্টের একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলি। আইনজীবী বললেন, টাউন-ট্রেড গ্রুপ বাতিল করার জন্য রিট করলে রায় পক্ষে আসবে না। চেম্বারের ইলেকশনের পর এজিএম করে এটা বাতিল করতে হবে।’
আমীর হুমায়ুন প্রশ্ন রাখেন, ‘এই পরিস্থিতিতে টাউন-ট্রেড গ্রুপ নিয়ে লতিফের সঙ্গে সমঝোতা করা ছাড়া আমার সামনে আর কী রাস্তা আছে বলেন? আর লতিফের সঙ্গে আঁতাত করে আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ীদের আমার দলে নিয়ে আসলে অসুবিধাটা কোথায়? বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যারা করেছে তারা তো আগে ছাত্রলীগ করেছে।’
সমঝোতা কীভাবে হলো জানতে চাইলে বিএনপিপন্থী এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘লতিফ তো জেলে আছেন। তার সঙ্গে আমরা সরাসরি আলাপ করতে পারিনি। একটা মাধ্যমে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে সমঝোতা করেছি।’

তাহলে কি আওয়ামী লীগপন্থী ব্যবসায়ীরা আবার চেম্বারে আসছেন-এই প্রশ্নের জবাবে আমীর হুমায়ুন চৌধুরী বলেন, ‘১৬ বছর চেম্বারে লতিফের প্যানেলের সব ব্যবসায়ী কি আওয়ামী লীগপন্থী ছিলেন? আর লতিফ সাহেব কি বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীদের সুযোগ দেয়নি? পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মিজান সাহেবের ছেলে আকতার পারভেজ হিরু কি পরিচালক হয়নি? সুফি মিজান সাহেব বিএনপি ঘরানার লোক। আওয়ামী লীগের আমলে তিনি ১০০ একরের একটি প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। কিন্তু মিজান সাহেব বিএনপি ঘরানার লোক বিধায় আর খসরু সাহেবের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকার কারণে আওয়ামী লীগ সরকার তার প্লট বাতিল করে দেন। এটা কেউ জানে না। মিজান সাহেবের ওপর আওয়ামী লীগ সরকার অনেক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভায় সুফি মিজান সাহেবকে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিলো।’
লতিফের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সমালোচনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিটাগাং চেম্বারের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘যারা আমাদের বিরোধিতা করছে তাদের এখন মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কারণ আমরা তো এখন ছয়টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যাবো। আর যারা লাফালাফি করতেছে তাদের না আছে ব্যবসা, না আছে কোনো ইন্ডাস্ট্রি। তারা চেম্বারের আইন-কানুন সম্পর্কে কিছু বুঝে? জামায়াতের নেতারা তো কখনোই চেম্বারের সাথে যুক্ত ছিলেন না। চেম্বার কী জিনিস সেটা তো তারা বুঝেই না। চেম্বারের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই।’
এম এ লতিফের সঙ্গে আমীর হুমায়ুন চৌধুরীর সমঝোতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ী ও অ্যাকর্ড হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান শাহজাহান মহিউদ্দিন রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আমার কাছে এটা বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য মনে হয়। এর মাধ্যমে আমীর হুমায়ুন চেম্বারের ৬ হাজার ৭০০ ভোটারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এটি খুবই লজ্জাজনক। এর পেছনে তার বড় ভাই ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও সম্পৃক্ততা আছে। এই সমঝোতার নেপথ্যে নিশ্চয় তাদের কোনো গোপন স্বার্থ আছে। আমীর হুমায়ুন আগে লতিফ সাহেবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি এখন তার নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে সেই লতিফকে বুকে টেনে নিয়েছেন? অথচ চেম্বারের সাবেক সভাপতি হিসেবে আমীর হুমায়ুনকে লতিফ সাহেব ১৬ বছর পাত্তাও দেয়নি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী নেতা রাজনীতি সংবাদকে বলেন, আমীর খসরু ও আমীর হুমায়ুন হয়তো কিছুদিন পর সমঝোতা করে এম এ লতিফকে জেল থেকে বের করে আনবেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১ নভেম্বর দেশের শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চিটাগাং চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফরম বিক্রি হবে। মনোনয়ন ফরম জমাদানের শেষ তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর। ৫ অক্টোবর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
চিটাগাং চেম্বারের সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। ওই নির্বাচনে মাহবুবুল আলম-নুরুন নেওয়াজ সেলিম পরিষদ জয়লাভ করে। এর পরের পাঁচ মেয়াদের নির্বাচনে কোনো ভোটাভুটি হয়নি। বিনাভোটে চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত হয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছর পর এবার চিটাগাং চেম্বারের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের নির্বাচনে লড়ছেন কারা?
চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইতে পারেন আমজাদ হোসেন!
৩১ আগস্ট রাতে কী হয়েছিলো চিটাগাং চেম্বারে?
