রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
শিপিং এজেন্টদের সংগঠন বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের পরিচালনা বোর্ড নির্বাচনের লড়াইয়ে নামতে পারে দুটি প্যানেল। এর মধ্যে একটি পক্ষ তাদের প্যানেল প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। তবে অপর পক্ষ এখনো তাদের প্যানেল প্রকাশ করেনি।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের অন্যতম প্রতিষ্ঠান শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ অক্টোবর। টাইগারপাস নেভি কনভেনশন সেন্টারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল গত ৬ সেপ্টেম্বর। গতকাল শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন বোর্ড প্রার্থীদের রিভিউ তালিকা প্রকাশ করে। রিভিউতে অনেক প্রার্থী বাদ পড়েছেন। তবে বাদ পড়া প্রার্থীরা আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেতে পারেন। ২৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিনই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন বোর্ড।
শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশেনের পরিচালনা বোর্ডে মোট ২৪টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, দুজন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, দুজন ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেনারেল ক্যাটাগরির ১৩ জন ও এসোসিয়েট ক্যাটাগরির ৬ জন পরিচালক।
প্রতিষ্ঠানটির বিগত সময়ের নির্বাচনে সরাসরি ভোটে ২৪ জন পরিচালক নির্বাচিত হতেন। এর মধ্যে জেনারেল ক্যাটাগরির ভোটার জেনারেল গ্রুপের পরিচালক এবং এসোসিয়েট ক্যাটাগরির ভোটার এসোসিয়েট গ্রুপের পরিচালক নির্বাচিত করতেন। এরপর পরিচালকদের ভোটে বা সমঝোতায় প্রেসিডিয়াম (চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান) নির্বাচিত হতো। কিন্তু এবার ‘বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী, জেনারেল ও এসোসিয়েট ক্যাটাগরির ভোটার ২৪টি পদে ভোট প্রয়োগ করবেন। চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবে।
বাণিজ্য সংগঠন নতুন বিধিমালার কারণে এবারের শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশেনের নির্বাচনে শিপিং এজেন্সির মালিক বা শেয়ার হোল্ডার ছাড়া কেউ প্রার্থী হতে পারেননি। আগে শিপিং এজেন্সির মালিকের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠানের জিএম, ম্যানেজারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রার্থিতার সুযোগ পেতেন। এ ছাড়া আগে পরপর দুইবার পরিচালক নির্বাচিত হওয়া ব্যক্তিরা এবার প্রার্থী হতে পারেননি।
জানা গেছে, শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশেনের সদস্য সংখ্যা হলো ৫৩০ জন। এর মধ্যে ভোটার হয়েছে ১৬১ জন।
নির্বাচন বোর্ডের রিভিউ প্রার্থী তালিকায় দেখা গেছে, পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ২৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৩৯ জন। এর মধ্যে অনেকে ‘কৌশলগত কারণে’ দুই-তিনটা ক্যাটাগরি থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। তবে তারা মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন একের অধিক ক্যাটাগরি থেকে সরে দাঁড়াবেন।
পাঁচটি ক্যাটাগরির মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। এরা হলেন-বেঙ্গল শিপিং লাইন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল মালেক, ইন্টারমোডাল পিটিই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান ইকবাল চৌধুরী, সীকম শিপিং লাইনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহুর আহমেদ, ভেগা মেরিন (প্রা.) লিমিটেডের পরিচালক আহসানুল হক চৌধুরী, এ. এ. শিপিং সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মশিউল আলম স্বপন এবং নাফ মেরিন সার্ভিসেসের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী।
সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (জেনারেল ক্যাটাগরি) পদে প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। এরা হলেন-আরগো শিপিং সার্ভিসেস লিমিটেডের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলী, বেঙ্গল শিপিং লাইন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল মালেক, কে এম সি শিপিং লাইনের আজিম রহিম চৌধুরী, সীকম শিপিং লাইনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহুর আহমেদ এবং সেভেন সিজ শিপিং লাইনসের মোহাম্মদ আলী আকবর।
ভাইস চেয়ারম্যান (এসোসিয়েট ক্যাটাগরি) পদেও প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। এরা হলেন-এ. এ. শিপিং সার্ভিসেসের ম্যানেজিং পার্টনার মোহাম্মদ মশিউল আলম স্বপন, মার্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকসের ক্যাপ্টেন আলাউদ্দিন আল আজাদ, নাফ মেরিন সার্ভিসেসের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী, পার্ক শিপিং লাইনের মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পাটোয়ারী এবং সিনোবেন শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের আখতার কামাল চৌধুরী।
জেনারেল ক্যাটাগরির পরিচালক পদে প্রার্থী হয়েছেন ১৮ জন। এরা হলেন-এ বি সি শিপিং লাইনস লিমিটেডের মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, আমান শিপিং এজেন্সির আনোয়ারুল কবির কামরুল, আরগো শিপিং সার্ভিসেস লিমিটেডের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলী, এশিয়াবাল্ক মেরিটাইম প্রা. লিমিটেডের অঞ্জন মজুমদার, আয়ার শিপিং সার্ভিসেসের সৈয়দ ইমাম হোসাইন, এভার চিয়ার শিপিং লাইনসের মোহাম্মদ শফিউল আলম, গ্লোব শিপিং লাইনস লিমিটেডের মোহাম্মদ দিদারুল আলম চৌধুরী, গো পোর্ট শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিংয়ের মোহাম্মদ দিদারুল আলম চৌধুরী, এইচ সি মেরিন লিমিটেডের নুরুন নবী, ইন্টারপোর্ট শিপ এজেন্টস লিমিটেডের আহমেদ তাহসীন আসাদুল্লাহ, কে এস এম শিপিং এজেন্সিস (প্রা.) লিমিটেডের কাজী মনসুর উদ্দিন, মাদার শিপিং লাইনস লিমিটেডের সারোয়ার ইহসান জিয়া, মাল্টিমুভ শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেডের মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস, ওশান কিং কন্টেনার লাইনসের মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন খান (হাসান), এস কে শিপিং বিডির এটিএম জহিরুল ইসলাম, সেভেন সিজ শিপিং লাইনসের মোহাম্মদ আলী আকবর, শামসে জোহাকে শিপিং লিমিটেডের আকিব হাসনাত এবং দ্য আকিব শিপিং লাইনস লিমিটেডের মোহাম্মদ শহীদ উল্ল্যাহ চৌধুরী।
এসোসিয়েট ক্যাটাগরির পরিচালক পদে প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন জন। এরা হলেন-এ. এ. শিপিং সার্ভিসেসের ম্যানেজিং পার্টনার মোহাম্মদ মশিউল আলম স্বপন, কনভেয়র শিপিং লাইনসের মোহাম্মদ কবির আহমদ, মিউচুয়াল শিপিং লিমিটেডের জুনায়েদ আহমেদ রাহাত, পার্ক শিপিং লাইনের মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পাটোয়ারী এবং সামুন্দা শিপিং লাইনস লিমিটেডের মাসুদ আহমেদ।
ভোটের লড়াইয়ে নামতে পারে দুই প্যানেল
শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশেনের নির্বাচনে এবার দুটি প্যানেল ভোটের লড়াইয়ে নামতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। দুই প্যানেলকে নেপথ্যে দুই ব্যবসায়ী নেতা সমর্থন করার কথা শোনা গেলও তারা রাজনীতি সংবাদের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
একটি প্যানেলের নেতৃত্বে আছেন নাফ মেরিন সার্ভিসেসের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী এবং এ. এ. শিপিং সার্ভিসেসের ম্যানেজিং পার্টনার মোহাম্মদ মশিউল আলম স্বপন। এরা দুজন চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেও একজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে অন্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। এটি বিএনপিপন্থী প্যানেল হিসেবে পরিচিত। মশিউল আলম স্বপন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
জানতে চাইলে মশিউল আলম স্বপন রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘২৪টি পদের বিপরীতে আমাদের ৩২-৩৪ জন প্রার্থী হয়েছেন। বিগত সময়ের নির্বাচনে আমাদের কাউকে প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি। প্রার্থী তো দূরের কথা, আমাকে ভোটারও করেনি। তাই আমাদের প্রতিজ্ঞা, এবার এসোসিয়েশনকে আমরা আওয়ামী দোষরমুক্ত করবো।’
শিপিং এজেন্টদের মধ্যে প্রচার আছে, চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী এই প্যানেলকে নেপথ্যে সমর্থন দিচ্ছেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছোট ভাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘শিপিং এজেন্টের নির্বাচনে আমি কাউকে সমর্থন দিচ্ছি না। যদি কেউ এটা প্রচার করে থাকে সেটা গুজব। তবে দুই প্যানেলের প্রার্থীরা যদি আমার কাছে আসে তাহলে আমি তাদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করবো।’
এদিকে অপর পক্ষের নেতৃত্বে কে আছেন তা এখনো প্রকাশ হয়নি। জানা গেছে, এই পক্ষ থেকে তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। এরা হলেন-ইন্টারমোডাল পিটিই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান ইকবাল চৌধুরী, বেঙ্গল শিপিং লাইন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল মালেক এবং সীকম শিপিং লাইনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহুর আহমেদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই প্যানেলের তিনজন কৌশলগত কারণে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে অন্য ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচন করবেন।
জানা গেছে, এই প্যানেলের অনেকে বিগত দুই মেয়াদে নির্বাচন করেছেন। বিগত দুই মেয়াদে নির্বাচিত হওয়া এবং এজেন্সির মালিকানা ছাড়া অন্যদের প্রার্থিতার সুযোগ না থাকায় এবারের নির্বাচনে এই প্যানেল প্রার্থী সংকটে পড়েছে। এই প্যানেল থেকে ২৪টি পদের বিপরীতে মাত্র ১২ জন প্রার্থী হয়েছেন। এই প্যানেলে আওয়ামী লীগপন্থী অনেক শিপিং এজেন্ট রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শিপিং এজেন্টদের মধ্যে প্রচার আছে, সীকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিরুল হক এই প্যানেলকে নেপথ্যে সমর্থন দিচ্ছেন।
এ. এ. শিপিং সার্ভিসেসের ম্যানেজিং পার্টনার মোহাম্মদ মশিউল আলম স্বপন রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সোর্স থেকে জেনেছি, আমাদের প্রতিপক্ষ প্যানেলকে নেপথ্যে সীকম গ্রুপের চেয়ারম্যান আমিরুল হক সমর্থন দিচ্ছেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সীকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিরুল হক রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘মশিউল আলম স্বপন কে? তাকে তো আমি চিনি না। তাকে লিখিতভাবে বলতে বলেন, শিপিং এজেন্টের নির্বাচনে আমি কাকে সমর্থন দিচ্ছি। দেখি, কোন মায়ের ছেলে কীভাবে বলে? আমি যদি রাজনীতি করতাম ২০০৯ সালে মন্ত্রী হতাম।’
সীকম গ্রুপের চেয়ারম্যান আমিরুল হকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সীকম শিপিং লাইনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহুর আহমেদ নির্বাচনে একাধারে চেয়ারম্যান ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জহুর আহমেদ রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আমি সীকম গ্রুপের এমডি, আমিরুল হক চেয়ারম্যান। আমিরুল হক বললেই কি আমি দাঁড়াবো? আমি কোনো প্যানেল থেকে নির্বাচন করছি না। স্বতন্ত্রভাবে করবো। তবে আমি চাই, যোগ্য ব্যক্তিরাই এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে আসুক। যাদের বন্দর ও শিপিং সম্পর্কে জ্ঞান নেই, তারা কীভাবে এসোসিয়েশন চালাবে?’
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ আমাদের অনেক শিপিং এজেন্টকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি।
বিএনপিপন্থী শিপিং এজেন্টরা বলছেন, প্রতিপক্ষের প্রার্থীরা চিহ্নিত হওয়ার ভয়ে হয়তো প্যানেল নিয়ে নির্বাচন করবেন না। তারা কৌশলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে পারেন। আমরা বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করছি। এরপর আমরা আমাদের করণীয় ঠিক করবো।
এদিকে ভেগা মেরিন (প্রা.) লিমিটেডের পরিচালক আহসানুল হক চৌধুরী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন বলে রাজনীতি সংবাদকে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইতে পারেন আমজাদ হোসেন!
৩১ আগস্ট রাতে কী হয়েছিলো চিটাগাং চেম্বারে?
