রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
হাজার হাজার ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে নেপাল। বেশকিছুদিন ধরেই নেপাল সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে দেশটির তরুণ প্রজন্ম। সম্প্রতি নেপালে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরকারের আদেশে নিষিদ্ধ হওয়ায় বিক্ষোভ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
আজ সোমবার সকালে রাজধানী কাঠমান্ডুর বাণেশ্বর এলাকায় প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয় এবং অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে রাজধানীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে রাজধানীতে অবস্থিত পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়েছেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি, টিয়ার গ্যাস, জলকামান ছুড়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের পাশাপাশি রাজধানীতে কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার।
নেপালের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আজ দুপুর পর্যন্ত কমপক্ষে ১৬ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, নেপাল সরকারের ২৬টি অনিবন্ধিত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে- ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো বহুল ব্যবহৃত অ্যাপ। এই পদক্ষেপ জনসাধারণের ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে, যারা সরকারকে গভীর দুর্নীতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করার অভিযোগ তুলেছে।
২৪ বছর বয়সী ছাত্রী যুজন রাজভান্ডারী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। কিন্তু এটাই একমাত্র কারণ নয়, যে আমরা এখানে জড়ো হয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নেপালে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি।’
২০ বছর বয়সী আরেক ছাত্রী ইক্ষমা তুমরোক জানান, তিনি সরকারের ‘কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন।
তিনি এএফপি’কে বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন দেখতে চাই। অন্যরা এটা সহ্য করেছে, কিন্তু আমাদের প্রজন্মের সঙ্গেই এই ‘কতৃত্ববাদী মনোভাবের’ অবসান ঘটাতে হবে।’
খবরে বলা হয়, আজ সকালে জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ মিছিলের শুরু করলেও পরে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে দেশটির সংসদে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় বিক্ষোভকারীরা গাছের ডাল ও পানির বোতল ছুড়ে মারে এবং সরকার বিরোধী স্লোগান দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করে পাল্টা জবাব দেয়, যার ফলে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, গত মাসে নেপালে মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেয়, সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে সাত দিনের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে, যোগাযোগের জন্য প্রতিনিধি রাখতে হবে এবং অভিযোগ ও নিয়ম মানা বিষয়ক কর্মকর্তাও নিয়োগ দিতে হবে। এর জন্য ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে অধিকাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরকারের এই নির্দেশ মানেনি। ফলে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ফেসবুক, এক্স, হোয়াটসঅ্যাপসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমধ্যমের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা করার্যকর হয়।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ চলছেই, নিহত বেড়ে ৬৪ হাজার ৩৬৮
