আজ রোববার ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। ‘আশুরা’ আরবি শব্দ। এর অর্থ দশ। শরিয়তের পরিভাষায় মহররমের দশম দিবসকে ‘আশুরা’ বলে অভিহিত করা হয়। কারবালা প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এর শাহাদতবরণের শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত পালিত হয় আশুরা।
রোজাসহ বিভিন্ন নফল ইবাদতের মধ্য দিয়ে মুসলিমরা দিনটি পালন করে থাকেন।
পবিত্র কোরআন মাজিদ ও হাদিস শরিফে মহররম মাসের অত্যন্ত ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআনের ভাষায় এটি ‘আরবাআতুন হুরুম’-অর্থাৎ চার সম্মানিত মাসের অন্যতম। এ মাসে রোজা রাখার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের পর মহররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ।’
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, নবী কারিম (সা.) এই দিনে রোজা রাখতেন।
কারবালার ‘শোকাবহ এবং হৃদয়বিদারক ঘটনাবহুল’ এই দিনটিকে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে মুসলিম বিশ্বে গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়।
আরবি ৬১ হিজরির আজকের এই দিনে ফোরাত নদী-তীরবর্তী কারবালার ময়দানে শহীদ হন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.)। তিনি হজরত আলী (রা.) ও হজরত ফাতেমার (রা.) পুত্র। হজরত আলীর মৃত্যুর পর খলিফা হন হজরত মুয়াবিয়া (রা.)। জীবদ্দশাতেই তিনি পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকার মনোনীত করেন।
তবে ইয়াজিদের কাছে বায়াত নিতে অস্বীকৃতি জানান ইমাম হোসেন (রা.)। প্রতিবাদে মদিনা ছেড়ে কুফায় হিজরতের জন্য যাত্রা করেন তিনি। পরে কারবালা ময়দানে সঙ্গীদের নিয়ে যাত্রাবিরতি করেন। ইমাম হোসেন (রা.) ও তার অনুসারীদের আটক করে মদিনায় ফিরিয়ে নিতে ইয়াজিদের নির্দেশে উমর ইবনে সাদ বিন আবি ওক্কাসের নেতৃত্বে চার হাজার সৈন্য কারবালায় প্রবেশ করে।
আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে ইমাম হোসেনের শিবিরে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তারা। পানির অভাবে কাফেলার নারী-শিশুরা তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়লেও ইমাম হোসেন আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানান। ১০ মহররম অবরোধের বিরুদ্ধে অসম এক যুদ্ধে ইমাম হোসেন ও তার ৭২ সঙ্গী শহীদ হন। শিমার ইবনে জিলজুশান কণ্ঠদেশে ছুরি চালিয়ে ইমাম হোসেনকে হত্যা করে।
তবে আশুরার আরও গুরুত্ব রয়েছে। ইসলাম ধর্মমতে, ১০ মহররম আশুরার দিনই কেয়ামত হবে। এ ছাড়া সৃষ্টির শুরু থেকে মহররমের ১০ তারিখে তথা আশুরার দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ফলে আশুরার মর্যাদা ও মাহাত্ম্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।
ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয় মুসলিম বিশ্বে। বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত হচ্ছে আজ।
আশুরা উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, পবিত্র আশুরা জুলুম ও অবিচারের বিপরীতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় মানবজাতিকে শক্তি ও সাহস জোগাবে। তিনি সমাজে সাম্য, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মার ঐক্য, সংহতি ও অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করেন।
পবিত্র আশুরা আজ, এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে অধিকাংশ মসজিদে দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালিত হবে। বিহারী সম্প্রদায়ের লোকেরা বিশেষভাবে আশুরা পালন করবেন।
আরও পড়ুন: নামাজে সিজদার সময় আগে নাক না কপাল রাখতে হবে?
