‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী ঐক্য ফোরাম। আগামী রোববার (১ জুন) তিনজন উপদেষ্টাকে এবং সোমবার (২ জুন) দুইজন উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেবে সংগঠনটি।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এক ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম।
ঐক্য ফোরামের নেতারা বলেন, আগামী রবি ও সোমবার এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হবে না। এর পরিবর্তে রোববার অন্তর্বর্তী সরকারের তিনজন উপদেষ্টা তথা খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান ও পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে স্মারকলিপি দেবেন। আর সোমবার স্মারকলিপি দেওয়া হবে দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের কাছে। মাঠপর্যায়ে সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মাধ্যমেও স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সচিবালয়ের প্রতিদিন এক ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করার ঘোষণা বুধবার দেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের নেতারা।
একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সব দপ্তরে একই সময়ে এই কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানায় ঐক্য ফোরাম।
দাবি পূরণ না হলে ৩১ মের পর থেকে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে বুধবার জানান ঐক্য ফোরামের নেতারা।
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী রোববার আমরা ইতিবাচক খবর পেলে সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেব। একটা ভালো ফলাফল নিয়ে ঈদটা উদযাপন করবো।’
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সংশোধন করে সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন হয়। এরপর থেকে এই অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা। আন্দোলনের মধ্যেই গত রোববার সন্ধ্যায় সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে সরকার।
উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন হওয়া সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে গত শনি ও রোববার সচিবালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কর্মচারীরা। এর মধ্যেই রোববার রাতে সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ জারি করে সরকার।
এর ফলে চার ধরনের অপরাধের জন্য সরকারি কর্মচারীদের সাত দিনের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েই চাকরিচ্যুত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর প্রতিবাদে কর্মচারীরা গত সোম ও মঙ্গলবার সচিবালয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ করেন। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে সরকারের কয়েকজন সচিব কর্মচারী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সচিবদের আশ্বাসে গত বুধবার বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত রেখেছিলেন তাঁরা।
কর্মচারী নেতাদের সঙ্গে সচিবদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মচারীদের দাবির বিষয়টি গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে জানিয়েছেন সচিবেরা। রাষ্ট্রীয় সফর শেষে প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব তাকে কর্মচারীদের দাবির বিষয়টি অবগত করবেন।
আরও পড়ুন: ইশরাকের মেয়র পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন: আপিল বিভাগ
