সাকিব আল হাসান বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বিতর্কিত চরিত্র। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে জুয়ার বিজ্ঞাপনে মুখ দেখানোর মতো নানা ঘটনায় সমালোচনার খোরাক জুগিয়েছেন। এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ হওয়া ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে খোশগল্প করে আবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা সাকিব এখন যুক্তরাষ্ট্রে ঘাঁটি গেড়েছেন। সেখানেই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতাকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দেখা গেছে তাকে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টার কিছু সময় পর সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বেশকিছু ছবি পোস্ট করেন যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নেতা স্বপ্নীল খান। সেসব ছবিতে ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা দেন সাকিব আল হাসান।
পোস্টের ক্যাপশনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা স্বপ্নীল লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাথে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব ভাই!’
এদিকে সম্প্রতি বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত ৬ এপ্রিল দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বলেছেন, আমাদের আশঙ্কা সাকিব আল হাসান দুদকের আসামি হতে পারেন।
এমন আশঙ্কার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আমাদের অনুসন্ধান পর্যায়ে আছে। অনুসন্ধানের পরে বোঝা যাবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম নিয়ে কারসাজির দায়ে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর রাজধানীর আদাবর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয় সাকিব আল হাসানকে।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিবের ব্যবসায় হাতেখড়ি রেস্টুরেন্টের মাধ্যমে। এরপর ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রসাধনী, ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, কাঁকড়া ও কুঁচের খামারসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেন। সবশেষ যুক্ত হন ফুটওয়্যার ও ই-কমার্স ব্যবসায়। মোনার্ক মার্ট সাকিব আল হাসানের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন:
সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের বোলিং নিষিদ্ধ
