, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

হাসিনাবিরোধী গণবিক্ষোভের কথা আগেই জানতো ভারত: জয়শঙ্কর


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর
প্রকাশের সময় :২৩ মার্চ, ২০২৫ ১১:০৫ : পূর্বাহ্ণ

গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া গণবিক্ষোভের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল ভারত। তবে হাসিনার ওপর প্রয়োজনীয় প্রভাবের অভাব থাকায় ভারত খুব বেশি কিছু করার মতো অবস্থানে ছিল না, কেবল তাকে পরামর্শ দেওয়া সম্ভব ছিল।

গতকাল শনিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এ তথ্য জানায়।

পররাষ্ট্রবিষয়ক পরামর্শক কমিটির সদস্যরা জয়শঙ্করের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন, যেখানে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের পরিস্থিতিই আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।

জয়শঙ্কর জানান, ভারত বাংলাদেশের ভেতরের অস্থির পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিলো। ভারত ছাড়াও বাংলাদেশের ভেতরের টালমাটাল পরিস্থিতি সম্পর্কে বেশ কিছু নেতৃত্বস্থানীয় অংশীদারও জানতো বলে জয়শঙ্কর ইঙ্গিত দেন।

এ প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কের সাম্প্রতিক বক্তব্যের উল্লেখ করেন। জাতিসংঘ তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিল যে, যদি তারা নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তাদের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

 

জয়শঙ্কর আলোচনায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ‘বহিরাগত শক্তির’ ভূমিকা রয়েছে এবং চীনকে তিনি ‘প্রতিপক্ষ’ নয়, বরং ‘প্রতিযোগী’ হিসেবে দেখেন।

এছাড়াও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) নিয়েও আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। ২০১৪ সালের পর থেকে সংস্থাটির কোনো শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। এরপর ২০১৬ সালে পাকিস্তানে নির্ধারিত ১৯তম সার্ক সম্মেলনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয় ভারত। কারণ ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর, উরিতে ভারতীয় সামরিক স্থাপনায় হামলা করা হয়। এরপর থেকে ভারত বিমসটেককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মূলত, এই কারণে সার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে সংলাপ শুরু করলেও শেখ হাসিনাকে ভারত রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারত এরই মধ্যে ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিকে ঢাকায় পাঠায়।

তবে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক (বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন) শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নীরব।

তবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গতকাল দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় পরামর্শক কমিটির কাছে জানান, এ বৈঠকটি বিবেচনাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: জি এম কাদেরকে ফোন, ‘আপনি ঢাকা গেলেই অ্যারেস্ট হবেন’

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর