ইসরায়েলের সাবেক রাজধানী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র খ্যাত তেল আবিবে রকেট হামলা চালিয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ভূখণ্ডের শাসকগোষ্ঠী হামাস। যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় ইসরায়েলের স্থল ও আকাশপথে হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনায় প্রতিশোধ নিতে আজ বৃহস্পতিবার এই হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সশস্ত্র শাখা ইজ্জেদিন আল-কাশেম ব্রিগেডস বলেছে, গাজার বেসামরিক নাগরিকদের ইসরায়েলি ‘গণহত্যার’ প্রতিশোধে তারা তেল আবিবকে রকেট নিক্ষেপ করেছে।
হামাসের এই হামলার পরপরই অধিকৃত ভূখণ্ডের বিস্তীর্ণ অংশে সাইরেন বেজে ওঠে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরাইলের চ্যানেল ১২।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, গাজা থেকে ছোড়া একটি প্রোজাক্টাইল আটকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য দুটি প্রোজেক্টাইল জনবসতিহীন উন্মুক্ত একটি এলাকায় আঘাত হেনেছে। তবে এই হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে ইহুদিবাদী দেশটি।
টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, বেশ কয়েক মাস পর প্রথমবারের মতো হামাস ইসরাইল অধিকৃত ‘কেন্দ্রীয়’ ভূখণ্ডে রকেট হামলা চালিয়েছে। যার ফলে তেলআবিবে সতর্কতা সংকেত বাজানো হয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই হামলার বিস্তারিত তদন্ত করছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস এলাকা থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এছাড়াও ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামাসের সামরিক শাখা কাসসাম ব্রিগেডের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে তেলআবিবের বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহের অচলাবস্থার পর গত মঙ্গলবার ভোরের দিকে গাজা উপত্যকায় নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। পবিত্র রমজানে ইসরায়েলের নির্বিচার এই হামলার নিন্দায় সরব হয়ে উঠেছে মুসলিম বিশ্ব। গত ১৯ জানুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর কিছুটা শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল গাজায়। নতুন চুক্তিতে পৌঁছানো নিয়ে উভয়পক্ষের মাঝে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর মাঝেই গাজায় অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
আরও পড়ুন: গাজায় চারদিকে লাশের সারি, কারও শরীর পোড়া কারও নেই হাত-পা
