কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে চলমান পরিস্থিতিতে ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির আলোচনা স্থগিত করেছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম দফার এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে বলে ইইউ’র একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন।
আলোচনা স্থগিত করার বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বাংলাদেশ দূতাবাসকে গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে।
অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থনৈতিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে গত বছরের ২৫ অক্টোবর ইইউ-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় কূটনৈতিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় আলোচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বর্তমানে ব্রাসেলসে অবস্থান করছেন। তার এই সফরের মধ্যেই ইইউ অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পার্টনারশিপ অ্যান্ড কোঅপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) আলোচনা স্থগিত করলো।
বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ইইউর পররাষ্ট্রনীতির প্রধান জোসেপ বোরেল গতকাল বিবৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সহযোগিতা চুক্তির আলোচনা স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতার মধ্যে শিশু-কিশোর ও সাংবাদিকদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের’ নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তিনি সহিংসতার ঘটনাগুলোর যথাযথ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আহ্বান জানান।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সহিংসতায় শিক্ষার্থী ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার কমপক্ষে ২০০ মানুষ নিহত হন। আহত হন কয়েক হাজার। সহিংসতার ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ২৬৯টি মামলায় কয়েক হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বেআইনি হত্যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের গভীর উদ্বেগ
