বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪ | ১০ শ্রাবণ, ১৪৩১ | ১৮ মহর্‌রম, ১৪৪৬

মূলপাতা বিএনপি

খালেদা জিয়ার ১৪ ঈদ কেটেছে এক রুমে


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :১৮ জুন, ২০২৪ ৫:২৫ : অপরাহ্ণ
খালেদা জিয়া
Rajnitisangbad Facebook Page

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বন্দি হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৪ ঈদ কেটেছে এক রুমেই। তিনি ২০১৮ সাল থেকে বন্দিজীবন পার করছেন। কখনো পুরান ঢাকার কারাগারে, কখনো হাসপাতালের কেবিনে, আবার কখনো ফিরোজায়। এভাবেই একটি রুমে কেটে গেছে ১৪ ঈদ।

গতকাল সোমবার ঈদুল আজহার দিনটিও বন্দি ছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। শুধু একটা সময় সাক্ষাৎ দিয়েছেন দলের সিনিয়র নেতাদের।

দীর্ঘদিন অসুস্থ খালেদা জিয়া। দলীয় নেতারা তার উন্নত চিকিৎসা এবং মুক্তির জন্য আন্দোলন করে আসছেন।

সর্বশেষ সোমবার সাক্ষাৎ শেষে দলের নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নেই।

ঈদের দিন দলের সিনিয়র নেতারা তার পক্ষ থেকে ঈদ শুভেচ্ছা জানালেও তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা কামনা করেন।

ঈদের দিনে বাসার রান্না করা খাবার গ্রহণ করেছেন খালেদা জিয়া। বাইরে না যেতে পারলেও পরিবারের ছোট শিশুরা সঙ্গ দেন বেগম জিয়ার। তার ভাগনে ও ছেলের দিকের নাতি-নাতনিদের সঙ্গে গল্প করেই কাটিয়েছেন বেশ কিছু সময়।

আদালতের আদেশে খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। ওই বছরের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা তিনি সেই পরিত্যক্ত কারাগারে কাটান।

২০১৯ সালে বন্দি অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের এক রুমেই কেটে যায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মুখে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে গুলশানের ফিরোজা তার নিজ বাসাতেই রাখা হয় খালেদা জিয়াকে। সে বছরের দুইটি ঈদ পালন করেন বাসাতে।

২০২১ সালে ঈদুল ফিতরের দিনটি কাটান হাসপাতালের রুমে। তবে ঈদুল আজহার সময় তিনি ফিরোজাতেই ছিলেন। তার পরের ২০২২, ২০২৩ এবং চলতি বছরের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করেন ফিরোজাতেই।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে একই বছর দুর্নীতির আরেকটি মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০২০ সালের ২৫ মার্চ এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেয়। গুলশানের বাসায় অবস্থান এবং দেশ ত্যাগ না করার শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর থেকে একাধিকবার তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের সমস্যাসহ নানা রোগে ভুগছেন।।

২০২১ সালের নভেম্বরে লিভার সিরোসিস ধরা পড়ার পর থেকেই খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে আসছেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন: ফিরোজায় যেভাবে কাটছে খালেদা জিয়ার ঈদ

মন্তব্য করুন
Rajnitisangbad Youtube


আরও খবর