২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাত্র ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা (অপ্রদর্শিত অর্থ) বিনা প্রশ্নে সাদা করার সুযোগ থাকছে। আগামী জুলাই মাস থেকে এক বছরের জন্য কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে জমি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট কিনেও এলাকাভেদে নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যাবে। একেক এলাকার জন্য বর্গফুট অনুসারে নির্দিষ্ট কর দিতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে এ তথ্য জানান।
কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, দেশের প্রচলিত আইনে যাই থাকুক না কেন কোনো করদাতা স্থাবর সম্পত্তি যেমন-ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট ও ভূমির জন্য নির্দিষ্ট করহারে এবং নগদসহ অন্যান্য পরিসম্পদের ওপর ১৫ শতাংশ কর পরিশোধ করলে কোনো কর্তৃপক্ষ কোনও প্রকার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না।
সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরেও ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ওই অর্থবছরে ১১ হাজার ৮৩৯ জন ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বৈধ করেছিল। এটি ছিল দেশের ইতিহাসে যে কোনো অর্থবছরে সর্বোচ্চ কালো টাকা সাদা করার ঘটনা। এ থেকে সরকার ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল।
২০২১-২২ অর্থবছরে মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ কর দিয়ে বিদেশ থেকে অঘোষিত অর্থ দেশে আনার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু সে সুযোগও কেউ গ্রহণ করেনি। তাই পরের অর্থবছর এ সুযোগ আর রাখা হয়নি।
এক বছর বিরতির পর আগামী অর্থবছরে আবারও ঢালাওভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হলো।
স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে আসছে। তবে কখনোই উল্লেখযোগ্য সাড়া মিলেনি।
আজ বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হচ্ছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকছে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। বাকি ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকবে।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুর্নীতি সহায়ক: টিআইবি
বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুর্নীতি সহায়ক, অনৈতিক, বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানায় সংস্থাটি।
টিআইবি বলছে, মাত্র ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার এমন সুবিধা সৎ ও বৈধ আয়ের ব্যক্তি করদাতাকে নিরুৎসাহিত করার সংস্কৃতি গড়ে তোলার পাশাপাশি এর আওতায় ঘোষিত অর্থ ও সম্পদের ব্যাপারে কোনো কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন করার সুযোগ না রাখা দেশে দুর্নীতিসহায়ক একটি উদার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলেই শঙ্কা।
আরও পড়ুন: প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
