বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

মূলপাতা ধর্ম

আজ খুশির ঈদ


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :১১ এপ্রিল, ২০২৪ ৯:০১ : পূর্বাহ্ণ
Rajnitisangbad Facebook Page

পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ বৃহস্পতিবার। এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম সম্প্রদায় আজ ঈদ উদযাপন করছে।

ঈদ অর্থ আনন্দ। আর ফিতর বলতে রোজার সমাপ্তি, বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা। যেহেতু দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের এক তারিখে এর সমাপ্তি ঘটানো হয়, তাই এর নাম ঈদুল ফিতর।

মূলত মুমিন বান্দারা কঠোর সাধনার মাধ্যমে টানা ৩০ দিন যে সিয়াম পালন করেছেন, সেটার প্রতিদান বা পুরস্কার প্রদানের জন্যই এই উপলক্ষ। এজন্য ঈদুল ফিতরকে বলা হয় পুরস্কারের ঈদ। আর পুরস্কারপ্রাপ্তি মানেই আনন্দের। ফলে ঈদুল ফিতর মুমিনের খুশির উৎসব।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘‘রমজানের শেষে মুমিন বান্দারা যখন তাকবির পাঠ করতে করতে ঈদগাহের উদ্দেশে রওয়ানা হন, আল্লাহ তায়ালা তখন ফেরেশতাদের বলেন, ‘যে বান্দা তার কর্তব্য সম্পন্ন করে, তার প্রতিদান কী হওয়া উচিত?’ ফেরেশতারা বলেন, ‘তার প্রতিদান পূর্ণ মাত্রায় দেওয়া উচিত।’ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার বান্দারা তাদের ওপর আরোপিত কর্তব্য পালন করে এখন আমার মহিমা ঘোষণা করতে করতে বের হয়েছে। আমি আমার মর্যাদা ও প্রতিপত্তির শপথ করে বলছি, তাদের দোয়া অবশ্যই কবুল করবো। তারপর আল্লাহ ঘোষণা করেন, তোমরা ফিরে যাও। আমি তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দিলাম। আর তোমাদের পাপরাশিকে সওয়াবে পরিণত করলাম।’’ (বায়হাকি)

ঈদের দিনটি ধনী-গরিব আশরাফ-আতরাফনির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায়। এ দিক থেকে ঈদ কেবল আনন্দের বার্তাই নিয়ে আসে না, ইসলামের সাম্যের এক বড় পরিচয় উদ্ভাসিত হয় এই আনন্দঘন উৎসবের মধ্য দিয়ে।

সব ভেদাভেদ, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আজ ঈদগাহ ময়দানে এক কাতারে শামিল হন মুসলমানরা। নামাজ শেষে একে অপরকে ‘ঈদ মোবারক’ বলে বুকে জড়িয়ে ধরেন।

নামাজ শেষে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া, বন্ধু-বান্ধবদের মিলনমেলা, খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডায় মেতে উঠবেন মুসলমানরা। তাই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলো নামবে মানুষের ঢল।

ঈদ মুসলমানদের জাতীয় সম্মেলন ও ঐক্যের প্রতীক। ঈদের সূচনা হয় হিজরি দ্বিতীয় সন অর্থাৎ ৬২৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে।

অন্ধকার যুগে আরবের মক্কায় ‘উকাজ মেলা’ এবং মদিনায় ‘নীরোজ’ ও ‘মিহিরগান’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অশ্লীল আনন্দ-উল্লাস করা হতো। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় আগমনের পর মুসলমানদের জন্য ক্ষতিকর ও অশ্লীলতামুক্ত স্বতন্ত্র আনন্দ-উৎসবের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। এজন্য তিনি মুসলমানদের নির্মল আনন্দ উৎসব করতে বছরে দুটি ‘ঈদ’ উৎসবের প্রর্বতন করেন। এর একটি হলো ঈদুল ফিতর, অন্যটি হলো ঈদুল আজহা।

ইসলাম ধর্মের দুই ঈদের মধ্যে এক মাসের দীর্ঘ সিয়াম সাধনার কারণে ঈদুল ফিতরের জন্য প্রস্তুতি আয়োজন থাকে একটু বেশি। শুধু পোশাকে ঈদের আনন্দ সীমাবদ্ধ নয়, ঘরে ঘরে সাধ্যমতো নানা উপাদেয় খাবারের আয়োজন করেন সবাই।

‘সেমাইয়ের ঈদ’ নামে প্রচলিত এই ঈদে সেমাইয়ের সঙ্গে থাকবে ফিরনি, পিঠা, পায়েস, হালিম, পোলাও, কোর্মাসহ মুখরোচক রকমারি খাবারের আয়োজন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ঈদের দিনে কেমন থাকবে আবহাওয়া জেনে নিন

মন্তব্য করুন
Rajnitisangbad Youtube


আরও খবর