ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকির বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘কে কোথায় কী বললো, আমার কাছে সেই এভিডেন্স তো কেউ দেয়নি। সবার আগে এভিডেন্স প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাস করি, ফ্রিডম অব স্পিচ, ফ্রিডম অব মিডিয়ায় বিশ্বাস করি, কারও মুখ তো আঠা দিয়ে বন্ধ করে দিতে পারি না। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি গর্হিত কাজ করে, তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেবো, নিচ্ছিও।’
আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ সব কূটনীতিককে নিরাপত্তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা অক্ষরে অক্ষরে ভিয়েনা সনদ মেনে চলি, আপনারাও এটা মেনে চলেন। আপনারা এসব লঙ্ঘন করে আবার বড় বড় কথা বলেন।’
উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ফরিদুল আলম এক কর্মী সমাবেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে হত্যার হুমকি দেন। আওয়ামী লীগ নেতার এই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হলে এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন দূতাবাস। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তরফেও প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়।
এর আগে গত ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীও এক সমাবেশে পিটার হাসকেপ্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন এবং অশালীন মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: পিটার হাসকে হুমকি: আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ
ওয়াশিংটন বলছে, মার্কিন কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা সহিংসতার হুমকি অগ্রহণযোগ্য। পিটার হাসকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে যথাযথভাবে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। ভিয়েনা সনদ অনুসারে মার্কিন কূটনৈতিক মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওয়াশিংটন আশা করে, এই বাধ্যবাধকতা অনুসারে বাংলাদেশ সরকার কাজ করবে।
আরও পড়ুন: পিটার হাসকে হত্যার হুমকি ও নির্বাচনের তফসিল নিয়ে যা বললো যুক্তরাষ্ট্র
ওয়াশিংটনের আহ্বান বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী এখানে অবস্থানরত সকল বিদেশি কূটনীতিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে এবং তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সকল কূটনীতিকের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। আমরা যথাযথভাবে ভিয়েনা কনভেনশন অনুসরণ করে যাচ্ছি।’
কূটনীতিকদের রাজনৈতিক দল গঠনের পরামর্শ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
যেসব বিদেশি নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা বলেন, তাদের একটি রাজনৈতিক দল গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব বিদেশি নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা বলেন, তারা একটি রাজনৈতিক দল গঠন করুন, এটা হচ্ছে দ্য অ্যাম্বাসেডর পার্টি বা অন্যকিছু। আর একটা অঙ্গীকার করুন; যারা তাদের ভোট দেবে, তাদের নিজেদের দেশের নাগরিক করে নিয়ে যাবেন। দেখবেন অনেকেই তাদের ভোট দেবে। তাদের সেই নিশ্চয়তা দেওয়া উচিত, যারা তাদের ভোট দেবে, তাদের নিজ দেশের নাগরিক করে নেবেন।’
আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বিদেশিরা দল করলে আমাদের অসুবিধা নেই, আপত্তিও নেই।’
