বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

দিয়াজ হত্যা মামলায় নতুন মোড়, এবার তদন্তে নামছে পিবিআই


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন, চট্টগ্রাম প্রকাশের সময় :৩০ মার্চ, ২০২৩ ৩:৩৩ : অপরাহ্ণ
ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী
Rajnitisangbad Facebook Page

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলা নতুন মোড় নিয়েছে। মামলায় আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করে সিআইডির দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালত আমলে নেননি। মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দিয়াজের মা ও মামলার বাদী জাহেদা আমিন চৌধুরী সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। এই আবেদন আদালত গ্রহণ করে পিবিআইকে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

প্রায় ছয় বছর তদন্ত শেষে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সিআইডি দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলায় ‘চূড়ান্ত প্রতিবেদন’ দেয়। তাতে বলা হয়েছিল, দিয়াজ ‘আত্মহত্যা’ করেছিলেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, সিআইডির দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পিবিআইয়ের সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা দিয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

দিয়াজের বোন আইনজীবী জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এটা হত্যা। সেটাকে ডিনাই করে কীভাবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়? পাশাপাশি যাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে সে চার জন বলেছে, ঘটনার রাতে তারা সেখানে ছিল। তাহলে তারা ঘটনার পর পুরো দিন সে বিষয়ে কাউকে কিছু বলেনি কেন? তাহলে তারা তো আসামি হওয়ার কথা, তারা সাক্ষী হলেন কীভাবে? ঘটনার পাঁচ বছর পর কেন তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলো?

২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নিজের বাসা থেকে উদ্ধার হয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত মরদেহ।

দিয়াজের মৃত্যুর তিন দিন পর ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের দেওয়া প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করা হয়। তার ভিত্তিতে হাটহাজারী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করে পুলিশ।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নির্মাণ কাজের ৯৫ কোটি টাকার দরপত্র নিয়ে কোন্দলের জেরে এ ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলে শুরু থেকেই দিয়াজের পরিবার ও তার অনুসারী ছাত্রলীগের কর্মীরা দাবি করে আসছিল।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে আদালতে হত্যা মামলা করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু, সহসভাপতি আবদুল মালেক, মনসুর আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তোরাব, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরমান, প্রচার সম্পাদক রাশেদুল আলম, আপ্যায়ন সম্পাদক মিজানুর রহমান, সদস্য আরিফুল হক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জামশেদুল আলম চৌধুরী।

আদালত সূত্র জানায়, আসামিদের মধ্যে শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর টিপু ও তার ভাই মো. আরমান জামিনে আছেন, বাকিরা পলাতক।

আসামিরা সবাই চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দিয়াজও ছিলেন নাছিরেরই অনুসারী।

প্রথম ময়নাতদন্তের পর দিয়াজের মায়ের আপত্তিতে আদালত সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়।

এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত হয়। ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই দেওয়া দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়াজের শরীরে হত্যার আলামত রয়েছে।

ওই প্রতিবেদনের পর দিয়াজের মায়ের করা এজাহার হত্যা মামলা হিসেবে নিতে হাটহাজারী থানার ওসিকে নির্দেশ দেয় আদালত।

মন্তব্য করুন
Rajnitisangbad Youtube


আরও খবর