বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০২২ | ২৩ আষাঢ়, ১৪২৯ | ৭ জিলহজ, ১৪৪৩

মূলপাতা রাজনীতির মুখ

‘পরশ সাহেবের হাতে যুবলীগ, টাকা দিয়ে পদ কেনা যাবে না’


বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশের সময় :২১ মে, ২০২২ ৯:৫১ : অপরাহ্ণ
সৈয়দ নজরুল ইসলাম

সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালামের ছোট ভাই। চট্টগ্রাম নগরীর মোহরার এই সন্তান ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহসভাপতি। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালক।

দেশের ব্যবসায়িক অঙ্গনে সুপ্রতিষ্ঠিত হলেও ব্যবসার চেয়ে রাজনীতির প্রতিই ঝোঁক বেশি ৫০ বছর বয়সী সৈয়দ নজরুল ইসলামের। ব্যবসার চেয়ে বেশি সময় দেন রাজনীতিতে। স্কুলে পড়া অবস্থায় বড় ভাই আবদুচ ছালামের রাজনৈতিক কর্মকান্ড দেখে রাজনীতির প্রতি ঝুঁকে পড়েন তিনি।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানান, ১৯৮৬ সালে অস্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। ১৯৮৮ সালে ছাত্রলীগের মোহরা ওয়ার্ডের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরে চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগের সদস্য হন। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যান ভারতে। ২০০০ সালে ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে এমবিএ পাশ করে দেশে ফিরে নিজেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ওয়েল গ্রুপের হাল ধরেন। ওয়েল গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ওয়েল ডিজাইনার্সের পরিচালক পদে দায়িত্ব নেন। কিন্তু ব্যবসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়েও রাজনীতির নেশা ছাড়তে পারেননি তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি সক্রিয় থাকেন রাজনীতির মাঠেও। দীর্ঘদিন ধরে নগর যুবলীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আসন্ন কমিটিতে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন তারুণ্যে উজ্জীবিত সৈয়দ নজরুল ইসলাম। নিজের ব্যবসা, রাজনীতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সম্মেলন নিয়ে তিনি গতকাল শুক্রবার কথা বলেছেন রাজনীতি সংবাদের সঙ্গে।

নগর যুবলীগের সভাপতি পদে কেন প্রার্থী হলেন?

জবাবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ পরশ সাহেব, মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম যখন যুবলীগের দায়িত্ব নিয়েছেন তখন আমার মনমানসিকতা ও কর্মকান্ডের সঙ্গে উনাদের মিল খুঁজে পাই। তারা সংগঠনের ভাবমূর্তি উজ্জল করার জন্য নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে যে মানবিক যুবলীগ গড়ে তুলতে চান সেই সুযোগটা আমি নিতে চাই। আমি মনে করছি, যুবলীগের সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।’

আপনি দেশের একটা বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার পরও চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের সভাপতি হতে চান কেন?

উত্তরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের এই পদটাকে আমি সম্মান করি। কিন্তু এই পদটা যখন চলে যাবে তখন আমি আমজনতা হয়ে যাবো। আর রাজনীতি করতে হলে পদ-পদবী লাগে। পদ-পদবী ছাড়া বেশি দিন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা যায় না। আমাকে যদি যুবলীগের সদস্য পদও দেওয়া হয় সেটা আমি গ্রহণ করবো। কারণ আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাইরে গিয়ে চলতে পারবো না।’

সভাপতি পদে প্রার্থীদের অনেকে তদবিরে কোটি কোটি টাকা খরচ করছেন বলে গুঞ্জন আছে। আপনি তো একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আপনিও কি পদের জন্য তদবির করছেন?

জবাবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তদবিরে বিশ্বাসী না। আমি যদি টাকা খরচ করি, আল্লাহর রহমতে আমার মতো কেউ টাকা খরচ করতে পারবে না। কিন্তু টাকা দিয়ে পদ নেবো না। আমি কর্মীদের পেছনে টাকা খরচ করতে রাজি। কিন্তু পদ-পদবীর জন্য টাকা খরচ করবো না, এটা আমার নীতির বাইরে।’

যেসব প্রার্থীরা তদবিরে কোটি কোটি টাকা খরচ করছেন বলে গুঞ্জন আছে-সেটা আপনি কীভাবে দেখছেন?

উত্তরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পরশ সাহেবের হাতে যুবলীগ। টাকা দিয়ে যুবলীগের পদ কেনা যাবে না। পরশ সাহেবের সঙ্গে গত তিন বছর ধরে মিশতেছি। টাকা দিয়ে যদি তদবির হয় সেটা আমার চিন্তার বাইরে হয়ে যাবে। এগুলো হচ্ছে কিছু মানুষ বলে আমি তোমাকে পরশ ভাইয়ের কাছে নিয়ে যাবো। এগুলো বলে বলে টাকা খায়। আর যেসব প্রার্থীদের ব্যাপারে কোটি কোটি টাকা খরচ করার কথা শুনা যাচ্ছে তাদের আয়ের উৎস কী? এটা জানা দরকার। এই টাকা তারা কেমনে উসুল করবে? তারা কি পদ বিক্রি করে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি করে টাকা কামাবে?’

সভাপতি পদ নিয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

জবাবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শতভাগ আশাবাদী। আমি যেহেতু বিজিএমইএ’র মতো একটা শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে লড়াই করে নেতৃত্বে এসেছি নিশ্চয় আমার কোয়ালিটি কিছু আছে। আমার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক একটা অবস্থান আছে। এ ছাড়া আমি ছাত্ররাজনীতিও করেছি। পদ-পদবী ছাড়াও আমি এখন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি। আমার বিশ্বাস, আমার যেসব গুণাবলি আছে, যুবলীগের নেতৃবৃন্দ আমাকে সঠিক জায়গায় বসাবেন।’

আপনি কি মনে করেন, নগর যুবলীগের সভাপতি পদে আপনার বিজিএমইএ’র পদবীকে বিবেচনা করা হবে?

উত্তরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিজিএমইএ’র একজন শীর্ষ নেতা হিসেবে যে আমাকে সভাপতি পদ দেবে সেটা আমি বিশ্বাস করি না। যুবলীগের মতো একটা সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে নেতার পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির বিষয় বিবেচনা করা হবে।’

আপনি তো নগর আওয়ামী লীগের দুই ধারার (আ জ ম নাছির উদ্দীন ও মহিবুল হাসান নওফেল) সঙ্গে নেই। দুই ধারার বাইরে থেকে কি যুবলীগের নেতৃত্বে আসা যাবে?

জবাবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে আমার আত্মবিশ্বাস আছে। কারণ যুবলীগের নেতৃত্বে পরশ সাহেব আছেন। যদি দুই ধারার বিষয়টা বিবেচনা করে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয় তাহলে আমার কোনো আশা দেখছি না।’

নগর যুবলীগের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

উত্তরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের একটাই ব্যর্থতা, ওয়ার্ডে তারা কমিটি করতে পারেননি। কিন্তু যুবলীগের এই কমিটির কোনো বদনাম নেই। আমার জানা মতে, কমিটির শীর্ষ ৫ নেতাদের কেউ চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তারা চেষ্টা করেছে যুবলীগকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিতে।’

ব্যবসা ও রাজনীতি দুটোই করছেন। কোনটা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের?

জবাবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসা হলো আমার পেশা। কিন্তু রাজনীতি হলো নেশা। ব্যবসা নিজের জন্য, রাজনীতি জনগণের জন্য। ব্যবসা মানে নিজে কামাই করবো, পুরোপুরি নিজের স্বার্থে খরচ করবো। আর রাজনীতিতে স্বার্থ ও ত্যাগ বিসর্জনের একটা বিষয় আছে। রাজনীতির মাধ্যমেই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। আজকে দেশে যত উন্নয়ন দেখছেন সব রাজনীতিবিদদের কারণেই হয়েছে। সে কারণে ব্যবসার চেয়ে রাজনীতির প্রতি আমার ঝোঁক বেশি। তাই রাজনীতিতেই আমি স্বাচ্ছন্দবোধ করি।’


Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

আরও খবর