শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ | ২৫ শাওয়াল, ১৪৪৩

মূলপাতা রাজনীতির মুখ

বিএনপি নেতাদের ‘আশীর্বাদ ছাড়া’ নেতৃত্ব পেয়েছেন বুলু


নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ৭:১৫ : অপরাহ্ণ

বেলায়েত হোসেন বুুলু। বয়স ৪৭ বছর। স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক।

এর আগে তিনি ৭ বছর নগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বের পাশাপাশি দুই বছর ধরে ছাত্রদলেরও নেতৃত্বে দিয়েছেন।

সচরাচর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আশীর্বাদ ছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বে আসতে পারেন না তৃণমূলের নেতারা।

কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বেলায়েত হোসেন বুুলু। পদের জন্য কোনো বিএনপি নেতার কাছে ধর্না দেননি তিনি।

বিএনপি নেতাদের আশীর্বাদ ছাড়াই ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্ব পেয়েছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার বেলায়েত হোসেন বুলু রাজনীতি সংবাদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে আলাপকালে এ তথ্য জানান।

বেলায়েত হোসেন বুলু জানান, ১৯৯০ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। রাজনীতি জীবনের শুরুতে তিনি গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার ৭ নম্বর জোড্ডা ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান। এরপর ১৯৯২ সালে তিনি কুমিল্লা নাঙ্গলকোট বাইয়ারা জয়নাল উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল কমিটি ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৯৩ সালে তিনি গ্রাম থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে এসে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের হাত ধরে বুলুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়।

এরপর রাজনীতির মাঠে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেন তিনি।

১৯৯৭ সালে তিনি নগরীর ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে স্থান পান।

এরপর রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম আইন কলেজে ভর্তি হন বুলু।

পরের বছর এ ছাত্রদল নেতা আইন কলেজ ছাত্রসংসদের নির্বাচনে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু নির্বাচিত হতে পারেননি।

১৯৯৯ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ৬টি মামলার আসামি হন বুলু। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তখন ৬ মাস জেল কেটেছেন তিনি।

বেলায়েত হোসেন বুলু বলেন, ‘১৯৯৯ সালে যখন আমি গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাই, তখন আমার বয়স ছিল ১৯ বছর। তখন যেসব নেতারা গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গিয়েছিলেন তাদের বয়স আমার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। সম্ভবত চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে একমাত্র আমিই সবচেয়ে কম বয়স মামলার আসামি হয়ে ৬ মাস জেল কেটেছি।’

২০০০ সালে চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন বুলু।

আইন কলেজ থেকে তিনি ২০০১ সালে মহানগর ছাত্রদলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদে জায়গা করে নেন।

এরপর ২০০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর গঠিত মোশাররফ হোসেন দীপ্তি-আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেলের নেতৃত্বাধীন নগর ছাত্রদলের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান বুলু।

দীর্ঘ ২০ বছর চট্টগ্রাম নগরীর রাজনীতির মাঠ চষে বেড়ানোর পর ২০১৩ সালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পান বুলু।

২০১৩ সালের ২১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ বছর নগর ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

ছাত্রদলের নেতৃত্বে থাকাকালে তিনি ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান করে নেন।

নগর ছাত্রদলের পর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বে কীভাবে আসলেন?

এ প্রশ্নের জবাবে বেলায়েত হোসেন বুলু বলেন, ‘আমি আমার নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে নেতৃত্ব পেয়েছি। নেতৃত্বের জন্য কোনো বিএনপি নেতার কাছে ধর্না দিইনি। চট্টগ্রামের সিনিয়র বিএনপি নেতাদের কোনো সুপারিশ ছাড়াই ছাত্রদলের পর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্ব পেয়েছি।’

কিন্তু আপনি নাকি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব নিতে চাননি?

এ প্রশ্নের উত্তরে বুলু বলেন, ‘যাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি (এইচ এম রাশেদ খান) করা হয়েছে সে আমার জুনিয়র। আমি ছিলাম ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আর সে ছিল সাংগঠনিক সম্পাদক। বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা তাকে সভাপতি বানিয়েছে। অথচ আমি যখন চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, তখন সে (এইচ এম রাশেদ খান) রাজনীতিতেও আসেনি। তাই আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব নিতে চাইনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের অনুরোধে আমি এটা মেনে নিয়েছি।’

আপনি ৭ বছর নগর ছাত্রদলের নেতৃত্বে ছিলেন। কিন্তু মহানগর ও থানা-ওয়ার্ড কমিটি করতে না পারায় ছাত্রদলের নেতৃত্বের প্রতি তৃণমূল কর্মীদের ক্ষোভ ছিল। এটা কি ব্যর্থতা মনে করেন?

এ প্রশ্নের জবাবে বেলায়েত হোসেন বুলু বলেন, ‘আমরা কেবল দুটি থানা কমিটি করতে পেরেছিলাম। বিএনপি নেতাদের গ্রুপিং ও চাপের কারণে আমরা কমিটি করতে পারিনি। এটা অবশ্যই আমাদের ব্যর্থতা মনে করি।’

এখন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি কি স্বাধীনভাবে করতে পারছেন?

জবাবে বেলায়েত হোসেন বুলু বলেন, ‘আমরা ১৫টা থানার আহ্বায়ক কমিটি করেছি। কিন্তু একটা থানার কমিটিও আমরা স্বাধীনভাবে করতে পারিনি। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ছাড়া ৮টি থানা কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা হয়েছে। কমিটি করতে গেলে চট্টগ্রামের বিএনপির সিনিয়র নেতারা নানাভাবে চাপ ও বাধা দিয়েছেন। কমিটিতে তারা তাদের ঘরের মানুষকে আনতে চায়। বিএনপি নেতাদের বাসায় গিয়ে যেসব কর্মীরা প্রতিদিন হাজিরা দেয়, তারা তাদেরকে কমিটিতে আনতে চায়।’

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে এসে আপনি রাজনীতির মাঠে যেভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তেমনি অনেক কর্মীও সৃষ্টি করেছেন। কীভাবে এতো কর্মী সৃষ্টি করলেন?

উত্তরে বেলায়েত হোসেন বুলু বলেন, ‘আমি কর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ায়। কমিটিতে কর্মীদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। নগর ছাত্রদলের ৩৫ সদস্য আহ্বায়ক কমিটির ২০ জনই আমার হাতেগড়া কর্মী। এটা আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা মনে করি।’

আরও পড়ুন:

ছাত্রলীগ ও শিবির ক্যাডারদের গোলাগুলি থেকে দুবার রক্ষা পেয়েছিলেন শাহেদ

মহিউদ্দিন চৌধুরীর ‘দুটি প্রস্তাব’ ফিরিয়ে দেন ফরিদ মাহমুদ

আজিজের বর্ণাঢ্য মিছিল সবার নজর কাড়ে!

নন্দিত রনি, নিন্দিত রনি!


Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

আরও খবর