বিশ্বের ২৪টি দেশের তিন শতাধিক গুমের ঘটনা পর্যালোচনা করতে এ সপ্তাহে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।
আগামী ৭ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
ভার্চুয়াল এই বৈঠকে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজন, ২৪টি দেশের সরকার প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও অন্য অংশীজনের সঙ্গে গুমের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করবে দক্ষিণ কোরিয়ার তায় উং বাইকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি।
জাতিসংঘ ওই ২৪টি দেশের নাম প্রকাশ করেনি। তবে গত আগস্ট মাসে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে উত্থাপিত প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ ছিল।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশে গুমের অভিযোগ নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করছে। কয়েক বছর ধরে একই ধরনের অভিযোগ আসছে।
গুমবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, তারা ৮৩টি গুমের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
এর মধ্যে ৭৬টি অভিযোগ এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।
আরও পড়ুন: দেশে কেউ গুম হয় না, আত্মগোপনে থাকে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গুমবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গুমের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কয়েক বছর ধরে এ নিয়ে উদ্বেগ জানালেও বাংলাদেশ কোনো সাড়া দিচ্ছে না। ১৯৯৬ সাল থেকে ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে। বাংলাদেশ কেবল একটি গুমের অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। বাংলাদেশে গুমের ক্ষেত্রে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর ডিসেম্বরে এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের গুমের অভিযোগ উঠে।
ওয়ার্কিং গ্রুপ গুমের অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ সফরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়ে ২০১৩ সাল থেকে চিঠি পাঠাচ্ছে। ১৯৯৬ সালে প্রথম অভিযোগ পাঠানো হয় বাংলাদেশ থেকে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এর আগে জেনেভায় জাতিসংঘের বৈঠকে গুমের অভিযোগের জবাবে বলেছেন, বাংলাদেশের আইনে গুম বলে কিছু নেই।
জাতিসংঘ জানায়, বিশেষজ্ঞরা গুমের অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপটে ‘গুম থেকে সুরক্ষাবিষয়ক ঘোষণা’ বাস্তবায়নের বাধাগুলোও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।
ওই ঘোষণার ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ ২০২২ ও ২০২৩ সালে বিভিন্ন দেশ সফরসহ অন্যান্য কর্মসূচিও এবারের বৈঠকে চূড়ান্ত হবে।
