শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

দায়িত্ব নিয়ে প্রথমে শহরকে মশামুক্ত করার উদ্যোগ নিলেন চট্টগ্রাম সিটির নতুন মেয়র


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ৫:৫০ : অপরাহ্ণ

শীত প্রায় শেষ। চট্টগ্রাম শহরে মশার উৎপাতও কমে গেছে। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নতুন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী দায়িত্ব নিয়ে প্রথমে শহরকে মশামুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। আজ (১৫ ফেব্রুয়ারি) সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে নগরীর টাইগারপাস বাটালি হিল এলাকায় চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ে গিয়ে মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি।

এর আগে সকালে নগরীর লালখান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সুধী সমাবেশের আয়োজন করেন তিনি। সেখানে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা ও বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে মেয়র রেজাউল সরাসরি চসিকের কার্যালয়ে যান।

সুধী সমাবেশে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘মশার উপদ্রবে নগরবাসী অতিষ্ঠ। আমার প্রথম কাজ হবে মশা নিয়ন্ত্রণ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলায় আনবো। ১০০ দিনের মধ্যে নগরীর যেসব রাস্তায় খানাখন্দ আছে, সেগুলো সংস্কার করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করব। তবে ১০০ দিনে সব রাস্তা হয়ে যাবে তা আবেগের কথা। যান চলাচলের উপযুক্ত করার চেষ্টা করবো। যেকোনো মূল্যে খাল উদ্ধার করবো। পাঁচ বছরে শহর জলাবদ্ধতামুক্ত হবে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ শান্তি চায়, সুন্দরভাবে বসবাস করতে চায়। আমি মানুষকে শান্তি ও স্বস্তির নগরী উপহার দিতে চাই। অনেকে মনে করে, চট্টগ্রাম শুধু মেয়রের। আমি সেই পুরনো ধারণা ভেঙে দিতে চাই। এই নগরী আমার-আপনার সবার। তাই সবার সঙ্গে পরামর্শ করতে চাই, মেধাকে কাজে লাগাতে চাই। চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চাই। কারণ, ব্যক্তির চিন্তা-চেতনায় ভুল থাকতে পারে। সামষ্টিক চিন্তায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সফলতা এলে সবার।’

কারও পরামর্শ নিতে সংকীর্ণতা নেই উল্লেখ করে রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি শুধু মুখপাত্র, জনপ্রতিনিধি। ভোটের জন্য দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছি। পাঁচ বছরও সবার সঙ্গে পরামর্শ করে এগিয়ে যাবো। পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম আদর্শ নগরীর মডেল হিসেবে দাঁড়াবে।’

চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারী সেবা সংস্থাকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সিটির নতুন এই অভিভাবক। তার ভাষায়-‘আমার পরিষ্কার কথা হচ্ছে, যে সেবা সংস্থা গাফিলতি করবে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। অনেক সমম্বয় সভা হয়েছে, কিন্তু কার্যকর সেবা পায়নি। মেয়রের নির্বাহী ক্ষমতা থাকা উচিত।’

এই সুধী সমাবেশে যোগ দেননি সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, চসিকের বিদায়ী প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, চসিকের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সিডিএর চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম,চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রমুখ।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘সন্ত্রাস, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি আমরা এ শহরে চাই না। আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমরা চাই যিনি নগরপিতা হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তার কাছে অপরাজনৈতিক শক্তি ও যারা সন্ত্রাস করে, তাদের স্থান হবে না। সন্ত্রাসমুক্ত খুন-খারাবিমুক্ত চট্টগ্রাম চাই।’

সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদ নতুন মেয়রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। আমরা রেজাউল করিম চৌধুরীকে নয়, চট্টগ্রামবাসীকে সহযোগিতা করব। মাত্র ছয় মাসে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। এটার জন্য দেশপ্রেম দরকার হয়। জনপ্রিয় নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চট্টগ্রামের প্রতি প্রেম ছিল। এজন্যই তিনি পেরেছিলেন।’

চসিকের বিদায়ী প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘মাননীয় মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দীর্ঘদিন রাজনীতি করছেন, উনি অবশ্যই সফল হবেন। ছয় মাস দায়িত্ব পালন করেছি। পরামর্শ হচ্ছে— আয় বাড়াতে হবে। কিন্তু মানুষের ওপর ট্যাক্স চাপিয়ে আয় বাড়ানো যাবে না। শহরকে যারা ব্যবহার করছে, তাদের সারচার্জ আইন করে নির্ধারণ করতে হবে। নগরবাসী মাত্র ২০ শতাংশ নগরীকে ব্যবহার করে। যে ট্যাক্স একজন সাধারণ নাগরিক দেবে, তা বন্দর দিলে হবে না। ৩০ হাজার ট্রাক নগরীতে ঢোকে প্রতিদিন। তাদের ট্যাক্সের আওতায় আনতে হবে।’

চসিকের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘নতুন মেয়রকে বলব— দুর্নীতি দমন কমিশনকে ভয় করে কাজ করবেন না। অনেক কাজ করতে গেলে মামলার আসামি হতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী নৌকা প্রতীকে তিন লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট।

 


আরও খবর