শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা চসিক নির্বাচন স্পেশাল

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোটের আগে পদক্ষেপ নিচ্ছে না আ’লীগ!


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :২১ জানুয়ারি, ২০২১ ১০:৩০ : পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের।নির্বাচনের আর মাত্র ৬ দিন বাকি থাকলেও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এখনো সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।এ সুযোগে নগরীর ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১২টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থীদের সাথে পাল্লা দিয়ে বীরদর্পে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীরা কেন্দ্রের প্রতি ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। তারা বলছেন, কেন্দ্র বিদ্রোহীদের প্রতি নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে। নির্বাচনের আগে কেন্দ্র যদি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তো ভোটের মাঠ এক প্রকার উন্মুক্তই থাকছে।

গত বছরের ৮ মার্চন থেকে নগর আওয়ামী লীগ দফায় দফায় বর্ধিত সভা ও কার্যনির্বাহী কমিটির সভা করে আল্টিমেটাম ও হুঁশিয়ারি দিয়েও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের দমাতে পারেনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামে এসে বিদ্রোহীদের হুংকারও দিয়েছেন। কিন্তু এতো কিছুর পরও বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাবু করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন সম্প্রতি নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডে গিয়ে দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে বৈঠক করেছেন। কিন্তু এসব বৈঠকে মনোনীত-বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি।

সর্বশেষ নগর আওয়ামী লীগ গতকাল (২০ জানুয়ারি) বুধবার দারুল ফজল মার্কেট দলীয় কার্যালয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা করেন। এতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় তিনি বলেছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভবিষ্যত অন্ধকার। তাদের সাথে আওয়ামী লীগের আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না।

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের দল থেকে বহিস্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করে রাজনীতি সংবাদকে জানিয়েছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আর সময়-সুযোগ নেই। বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনেকে দলের কোনো পদে নেই। তাছাড়া নগরীর দুটি ওয়ার্ডে সংঘর্ষের ঘটনা ছাড়া বাকিগুলোতে মনোনীত-বিদ্রোহী প্রার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে।এসব বিষয় বিবেচনা করে কেন্দ্র হয়তো কৌশলগত কারণে নির্বাচনের আগে বিপুল সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নিতে চায় না। তবে ভোটের পরে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দল কঠোর পদক্ষেপ নিবে। যেটা হবে ভবিষ্যতে নির্বাচনে তারা আর মনোনয়ন পাবে না এবং তাদের দলীয় কোনো পদ-পদবী দেওয়া হবে না।

আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীরা বলছেন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দল যদি নির্বাচনের আগে কোনো ব্যবস্থা না নেয় তাহলে তারা দলীয় প্রার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আর এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে গিয়ে ভোটের দিন সংঘাত-সংঘর্ষ বাধবে। এর সুফল পাবে বিএনপির প্রার্থীরা।

৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল আবছার মিয়া রাজনীতি সংবাদকে বলেন, আমাদের নেতারা একেক জন একেক কথা বলেন। শুধু দফায় দফায় সভা করেছেন। কেন্দ্রও কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। ভোটের আগে বিদ্রোহীদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া মানে তো মাঠ ওপেন থাকা। মাঠ ওপেন থাকলে ভোটের দিন রক্তারক্তি হবে। তারা হয়তো সেটা চাইছে।

১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. বেলাল রাজনীতি সংবাদকে বলেন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আমরা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন সবকিছু মেনে নিয়ে আমরা ভোটের মাঠে তাদের মোকাবেলা করবো।

বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীরা বলছেন, দলীয় প্রার্থীদের যদি নির্বাচনী মাঠে জনসমর্থন থাকে, তাহলে ভোটের মাঠে তাদের সাথে মোকাবেলা করতে অসুবিধা কোথায় ?

৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মুরাদ বিপ্লব রাজনীতি সংবাদকে বলেন, দলীয় প্রার্থীরা বিদ্রোহীদের সাথে মোকাবেলা করতে দুর্বলতা কোথায়? এলাকায় দলীয় প্রার্থী নাকি বিদ্রোহী প্রার্থীর জনপ্রিয়তা রয়েছে সেটা ভোটের মাধ্যমে প্রমাণ হবে।

২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এইচ এম সোহেল রাজনীতি সংবাদকে বলেন, আমার মনে হয়, কেন্দ্রও চায় বিদ্রোহীরা ভোটের মাঠে থাকুক। মার্চে তফসিল ঘোষণার পর অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু কেন্দ্র ও নগর আওয়ামী লীগ বাস্তবে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ভোটের মাত্র ৬ দিন আগে মাঠ থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা এতোদিন কোথায় ছিলেন?

নৌকার মেয়র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল রাজনীতি সংবাদকে বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে নগর আওয়ামী লীগের কিছুই করার নেই। তাদের বিষয়ে এখন দলীয় প্রধান সিদ্ধান্ত নেবেন। ভোটের মাঠ থেকে নিবৃত্ত করা না গেলেও তাদের ভবিষ্যত রাজনীতির ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়বে।

উল্লেখ্য, চসিক নির্বাচনে নগরীর ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১২টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৪৩ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর বিপরীতে ৭৮ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এ পর্যন্ত ৬টি ওয়ার্ডে ৭ জন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নগরীর ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ৯টিতে রয়েছে একক প্রার্থী। ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের ৬১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ১৪টি সংরিক্ষত মহিলা ওয়ার্ডের মধ্যে দুটিতে রয়েছে একক প্রার্থী। বাকি ১২টি ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে ১৭ জন। অর্থাৎ ৩১টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থিত ৪৩ জন প্রার্থীর বিপরীতে মোট ৭৮ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এছাড়া ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হচ্ছেন আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর প্রার্থী হারুন উর রশিদ।


আরও খবর