বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ১২ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা নির্বাচন

৬০ পৌরসভায় ভোটযুদ্ধ কাল


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ৬:১৭ : অপরাহ্ণ

দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৬০ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল (১৬ জানুয়ারি) শনিবার। এরমধ্যে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় চার পৌরসভার মেয়রপদে ভোট হচ্ছে না। বাকি ৫৬ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী রয়েছেন ২২১ জন। ইতোমধ্যে নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। এ ধাপের ৬০টি পৌরসভার মধ্যে ২৮টিতে ইভিএমে ও ৩২টিতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হবে।

৬০ পৌরসভায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে এ নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে নির্বাচনি সরঞ্জাম। ২১ লাখ ৪৬ হাজার তিনশ’ ৬৯ জন ভোটারের জন্য ঠিক করা হয়েছে এক হাজার ৫৯টি ভোট কেন্দ্র।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে। যেসব জায়গা আমরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেছি সেসব জায়গায় আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা বাড়িয়েছি। সেখানে টহল এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

৬০টি পৌরসভায় সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৩২০ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছন। সংরক্ষিত আসনে কাউন্সিলর প্রার্থী ৭৪৫ জন।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৯ দলের মেয়র প্রার্থী। পাশাপাশি মেয়র পদে লড়ছেন বেশকিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীও। তবে বরাবরের মতই ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা আর বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে।

ভোট নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি উৎকণ্ঠা রয়েছে প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে। বিভিন্ন পৌরসভায় সংঘাত-সহিংসতা ও খুনোখুনির ঘটনাও ঘটছে। দিন দিন নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক কাউন্সিলর প্রার্থীর ভাই খুনের মাত্র ৫ ঘণ্টা পর প্রতিপক্ষ প্রার্থী আলমগীর খান ওরফে বাবুর লাশ কুমার নদ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শৈলকুপা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ভোট স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভায় বোমা হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৬টি পৌরসভাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ চিহ্নিত করে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটকেন্দ্র ছাড়াও নির্বাচনী এলাকাগুলোতে বিজিবি, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল টিম এলাকায় টহল দিচ্ছে এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

গত ৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ৬১টি পৌরসভা নির্বাচেনর তফসিল ঘোষণা করে ইসি। নীলফামারির সৈয়দপুর পৌরসভার একজন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মারা যাওয়ায় স্থগিত করা হয়েছে সেখানকার ভোট। ফলে শনিবার ভোট হচ্ছে ৬০ পৌরসভায়।

যে ৬০ পৌরসভায় ভোট:

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ; নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ও কেন্দুয়া; কুষ্টিয়ার সদর, মিরপুর, ভেড়ামারা, কুমারখালী; মৌলভীবাজারের কুলাউড়া; নারাণগঞ্জের তারাব; শরীয়তপুর সদর; কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী; গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ; দিনাজপুর সদর, বিরামরপুর ও বীরগঞ্জ; মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ; মাগুরা সদর; ঢাকার সাভার; নওগাঁর নজিপুর; পাবনার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, সাঁথিয়া, সুজানগর ও ঈশ্বরদী; রাজশাহীর কাকনহাট, ভাবনীগঞ্জ ও আড়ানী; সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক ও জগন্নাথপুর; হবিগঞ্জের মাধবপুর ও নবীগঞ্জ।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী; ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ও মুক্তাগাছা; নাটোরের নলডাঙ্গা, গোপালপুর ও গুরুদাসপুর; বগুড়ার শেরপুর, সারিয়াকান্দি ও শান্তাহার; সিরাজগঞ্জ সদর, উল্লাপাড়া, বেলকুচি, রায়পুর ও কাজিপুর; পিরোজপুর সদর; মেহেরপুরের গাংনী; ঝিনাইদহের শৈলকুপা; খাগড়াছড়ি সদর; বান্দরবানের লামা; টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী; কুমিল্লার চান্দিনা; ফেনীর দাগনভূঞা; কিশোরগঞ্জ সদর ও কুলিয়াচর; নরসিংদীর মনোহরদী; নোয়াখালীর বসুরহাট এবং বাগেরহাটের মোংলাপোর্ট।


আরও খবর