বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ১৩ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রক্তের সম্পর্ক, যা কখনো ভোলার নয়: দোরাইস্বামী


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ৬:১০ : অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রক্তের সম্পর্ক রয়েছে, যা কখনো ভোলার মতো নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জীবন উৎসর্গকারী মিত্রবাহিনীর অর্ধশতাধিক শহীদ স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মিত্র’ নামের একটি ভাস্কর্য। মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করার পর এ মন্তব্য করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম ও সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম।

বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে জীবন দানকারীদের মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সৈন্যদের স্মরণার্থে যে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে তা সত্যিই সম্মানের। হাতে হাত রেখে ভারতীয় সৈন্য ও মুক্তিবাহিনী যুদ্ধ করেছিল। আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন পাইলট হিসেবে। তাই আমি খুব গর্বিত। আত্মোৎসর্গকারী মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সেনাদের আমি গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানাই।

বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুর্ত্বপূর্ণ সম্পর্ক শুধু ঐতিহাসিক ও সংস্কৃতিগত নয়, এটি রক্তসম্পর্ক উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন বাংলাদেশের স্পিরিট। বাংলাদেশের জন্য তার আত্মত্যাগ এদেশের জনগণ ভুলতে পারবে না। এ দেশ স্বাধীন হয়েছে ত্রিশ লাখ শহীদ, নারীর সম্ভ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে। যারা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চায় তারা সফল হবে না।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ৭১ এর ১২ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যৌথভাবে পাক হানাদারদের ওপর আক্রমণ করে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী। যৌথবাহিনী যখন সীতাকুণ্ডে প্রবেশ করে, সেদিন প্রচণ্ড গোলাগুলি হচ্ছিল। গেরিলা বাহিনী, মিত্র বাহিনী যারা বাঙ্কারে ছিল সেদিন অনেকেই মারা গেছেন। আমাদের সামনেই অনেক লাশ পড়ে ছিল। বেশিরভাগ ছিল ভারতীয় সৈন্যদের লাশ।

মিত্রবাহিনীর সাহায্য ছাড়া যুদ্ধে জয় পাওয়াটা অসম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, তিনদিনের যুদ্ধে অর্ধশত মিত্রবাহিনী সদস্য ও অসংখ্য মুক্তিবাহিনী সদস্যদের প্রাণের বিনিময়ে ১৭ ডিসেম্বর এলাকাটি হানাদারমুক্ত হয়। শহীদ মিত্রবাহিনীর সম্মানে ঐতিহাসিক স্থানটিতে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‘মৃত্যুঞ্জয়ী মিত্র’ নামের এ ভাস্কর্য নির্মাণে ৩০ লাখ টাকার অর্থায়ন করেছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম এ সালামের দাবি, তাদের কাছে থাকা তথ্যে মিত্রবাহিনীর শহীদদের স্মরণে দেশে নির্মিত এটিই প্রথম ভাস্কর্য।


আরও খবর