বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ১৩ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা জাতীয়

জাতির পিতার অবমাননা হতে দেবেন না, সরকারি কর্মকর্তাদের অঙ্গীকার


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :১২ ডিসেম্বর, ২০২০ ৮:৪৭ : অপরাহ্ণ

কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে রাস্তায় নেমে সমাবেশ করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা। এসময় তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্ক চলতে দেয়া হবে না বলে অঙ্গীকার করেন। এছাড়া সমাবেশে ভাস্কর্য ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতির পিতার সম্মান/ রাখবো মোরা অম্লান’ শীর্ষক প্রতিবাদ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে সরকারি কর্মকর্তা ফোরাম। সমাবেশে অংশ নেয় ২৬টি বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারা।

সমাবেশে ভাস্কর্য ভাঙ্গাকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্ক চলতে দেয়া হবে না। ষড়যন্ত্রের মূল উৎপাটনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবিও জানান তারা।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, আমাদের কাছে টুলস আছে-আমরাই পুলিশ, ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারক। আমরা সবাই এক থাকলে জাতির পিতার নামের অবমূল্যায়ন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, কয়েকদিন পরেই আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছি, এই সময়ে মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙা অশুভ প্রয়াস। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অশুভ প্রয়াস প্রতিহত করতে হবে। আমরা এ দেশের জনগণের সেবক। এই সেবা করার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিসিএসে ২৯টি ক্যাডার পদ সৃষ্টি করে আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের দায়িত্ব সংবিধানকে সমুন্নত রাখা। কোথাও অন্যায় হলে প্রতিবাদ করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের সবাইকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, আমাদের জীবদ্দশায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসম্মান হতে দেব না।

সমাবেশে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবিধানিকভাবে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এখনও এই মহান নেতাকে অস্বীকার করে যাচ্ছে। তারা হুংকার দিয়ে যাচ্ছে যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ওপর কোনো রকমের আঘাত, কোনো অপমান মেনে নেয়া হবে না, সহ্য করা হবে না।

সংবিধান ও রাষ্ট্রের ওপর আঘাত কঠোরভাবে মোকাবেলার ঘোষণা দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সংবিধানের অংশ। বঙ্গবন্ধু দেশ ও পতাকা দিয়েছেন, মানচিত্র দিয়েছেন। তার ওপর হামলা হল সংবিধান ও রাষ্ট্রের ওপর হামলা, জনগণের ওপর হামলা। রাষ্ট্র অবশ্যই তার আইন-বিধির মাধ্যমে এটি কঠোর হস্তে মোকাবেলা করবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের সভাপতি ও খাদ্যসচিব মোছাম্মাৎ নাজমানারা খানুম, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের পক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব বিকাশ কুমার সাহা, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের আ ম সেলিম রেজা, পররাষ্ট্র ক্যাডারের সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকার এবং আনসার ক্যাডারের শামসুল আলম প্রমুখ।


আরও খবর