বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০২২ | ২৩ আষাঢ়, ১৪২৯ | ৭ জিলহজ, ১৪৪৩

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

সংক্রমণের হার ১৫.৪৪, সুস্থতার হার ৭৯.২৪, মৃত্যুর হার ১.৩২ শতাংশ

চট্টগ্রামে শীতকালীন করোনা পরিস্থিতি: আশার আলো দেখাচ্ছে সুস্থতার হার


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :২১ নভেম্বর, ২০২০ ৭:২৫ : অপরাহ্ণ

শীতকালে দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের হার আবার বেড়ে যেতে পারে-এমন শঙ্কায় চিন্তিত সরকার। কিন্তু চট্টগ্রামে শীতকালে করোনা সংক্রমণের হার অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে না বলে মনে করছে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন। চট্টগ্রামে বর্তমানে করোনা সংক্রমণের যে পরিস্থিতি তা দেখেই চিন্তার কোনো কারণ দেখছেন না স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাকিল আহমদ রাজনীতি সংবাদকে বলেন, অনেকে বলছেন শীতকালে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসবে। আসলে শীতকালে অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কিন্তু এই ভাইরাস জ্বরের সাথে তো কোভিডের কোনো সম্পর্ক নেই। কোভিড যেকোনো সময়ে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্য প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এপ্রিল থেকে আগষ্ট পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণের হার ২০-২৩ শতাংশের মধ্যে ছিল। সেপ্টেম্বরে এসে ৫-৬ শতাংশে নেমে আসে। অক্টোবর থেকে সংক্রমণের হার ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে উঠানামা করছে।

অধ্যাপক ডা. শাকিল আহমদ বলেন, নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণের হার অস্বাভাবিকভাবে বাড়েনি। হয়তো ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে কিছুটা বাড়তে পারে। তবে তা ১০-১৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে বলে মনে হয়।

চট্টগ্রামে করোনার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্য প্রশাসনের বুলেটিনে!

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় ১ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার অনুপাতে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৪১৯ জন। এর মধ্যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৯৫টি। মোট নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনায় আক্রান্তের হার দাঁড়ায় ১৫.৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ একশ জনের মধ্যে ১৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

২০ নভেম্বর পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ৩১৩ জন। আক্রান্তের বিপরীতে মৃত্যুর হার হলো ১.৩২ শতাংশ।

কেবল আক্রান্তের পরিসংখ্যান দেখে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আক্রান্তের বিপরীতে সুস্থতার হারের চিত্রের দিকে তাকাতে বলছেন তারা।

সুস্থতার চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়,

২০ নভেম্বর পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ২৩ হাজার ৫৬৪ জনের বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ১৮ হাজার ৬৭৪ জন। সুস্থতার হার হলো ৭৯.২৪ শতাংশ। সুস্থতার উর্ধ্বগতির এই হার দেখেই স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চিন্তিত না হয়ে সন্তুষ্ট হওয়ারই কথা!

চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত করোনায় ২৩ হাজার ৫৬৪ জন সংক্রমণের বিপরীতে ১৮ হাজার ৬৭৪ জন সুস্থ ও ৩১৩ জন মৃতের সংখ্যা বাদ দিলে বর্তমানে আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন ৪ হাজার ৫৭৭ জন।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির রাজনীতি সংবাদকে বলেন, চট্টগ্রামে বর্তমানে করোনার যে পরিস্থিতি তাতে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। বরং আমরা আশার আলো দেখছি। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা খুব একটা বাড়ছে না। কিন্তু আক্রান্তের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে সুস্থতার সংখ্যা বাড়ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে করোনার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে আগামী দুয়েক মাসও সংক্রমণ খুব একটা বাড়বে বলে মনে হয় না।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম জেলায় গতকাল (২০ নভেম্বর) ১৪৯৮ নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৫ জন। আক্রান্তের শতকরা হার দাঁড়ায় ৯.৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারী- বেসরকারী হাসপাতালে সুস্থ হয়েছেন ৩৭৪ জন।

১৯ নভেম্বর করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৯৭, ১৮ নভেম্বর ১৭৮, ১৭ নভেম্বর ১৫৭ ও ১৬ নভেম্বর ১৮১ জন।

২০ নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলায় করোনা চিকিৎসায় সরকারী হাসপাতালে ১১৩ আর বেসরকারী হাসপাতালে ১০২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। অর্থাৎ বর্তমানে ৪ হাজার ৫৭৭ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছেন মাত্র ২১৫ জন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে আক্রান্তের হার ১-২ শতাংশ করে বাড়ছে। এটা অস্বাভাবিক বলে মনে করি না। কেননা আমাদের সুস্থতার হারও বাড়ছে। শীতকালে করোনার পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আতঙ্কের কিছু দেখছি না।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরুতে মানুষ আতঙ্কিত হলেও এখন অনেক সচেতন হয়ে গেছে। করোনায় আক্রান্ত হলেও অধিকাংশ মানুষ এখন বাসায় ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন। অধিকাংশ রোগী হাসপাতালে যাচ্ছেন না।

চট্টগ্রামে চকবাজার এলাকার মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন তিনি।


Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

আরও খবর