জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের শাসনামলে অসংখ্য গুম-খুন করেও পতিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো ধরনের অনুশোচনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অনুশোচনা করার বদলে আওয়ামী লীগ এখনো নানাভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করে যাচ্ছে।’
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছে, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে আসবে। আসেন! আমরাও দেখবো।’
আজ বুধবার দুপুরে ‘জুলাই গণঅভ্যুথান দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। ডকুমেন্টারি প্রদর্শন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে আপত্তি জানান। তাদের অভিযোগ, ডকুমেন্টারিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ এবং শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। একপর্যায়ে পুরো মিলনায়তনে হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ে।
প্রামাণ্যচিত্র শেষ হওয়ার পর জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতাকর্মীদের একাংশ বিভিন্ন ঘটনা ও ব্যক্তির যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকার অভিযোগ তোলেন।
একপর্যায়ে তারা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরে এনসিপির সদস্য সচিব, সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মঞ্চে উঠে প্রামাণ্যচিত্রের অসংগতি সংশোধনের দাবি জানান।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধনের আশ্বাস দেন। তিনি দুঃখও প্রকাশ করেন।
প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকাকে ‘ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল রয়েছে। প্রথম ভুল যেটা দেখেছি, সেখানে আবু সাঈদের ছবি নেই। আবু সাঈদ বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, প্রতীক। তার ছবি না থাকলে এটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়। ডকুমেন্টারিতে খালেদা জিয়ার ছবিও নেই। একইভাবে খালেদা জিয়ার ছবিও থাকা উচিত ছিল। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর আমাদের শান্ত থাকা উচিত ছিল।’
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রশ্ন, ‘কেউ বক্তব্য দিতে গেলে ভুয়া ভুয়া বলা কেমন সংস্কৃতি? রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এসব মানায় না। আমরা শিখবো কবে? আমরা সবাইকে সম্মান করতে চাই।’
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
