কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আজ বৃহস্পতিবারের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিবহন-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে। সারাদেশে বিরাজ করছে উত্তেজনা। সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করার কথা রয়েছে। জুলাই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় এটিই প্রথম মামলা। এই মামলার প্রধান আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্য আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (রাজসাক্ষী)।
দিনটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ঘোষণা দেন। এ পরিস্থিতিতে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সেখানেও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
দুর্বৃত্তরা টানা কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। গত কয়েকদিনে রাজধানী ঢাকার বাড্ডা, মিরপুর, ধোলাইপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে কেউ হতাহত না হলেও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার ভালুকজান এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দিলে বাসচালক জুলহাস মিয়া (৩০) নিহত হন। এছাড়া এনসিপি কার্যালয়, গ্রামীণ ব্যাংক ভবন, সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান টার্গেট করে ককটেল এবং পেট্রোলবোমা ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তরা আজ বড় কোনো নাশকতা যেন না ঘটাতে পারে সেজন্য সজাগ সরকার।
সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, দুষ্কৃতকারীরা ঢাকাসহ সারাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে তারা বেশকিছু স্থাপনার ভেতরে-বাইরে ককটেল বিস্ফোরণ, ধারাবাহিকভাবে কিছু বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ১৩ নভেম্বর সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, মেট্রোরেল স্টেশন, নৌ ও বাস টার্মিনালসহ সব ধরনের গণপরিবহন কেন্দ্র এখন কড়া নজরদারিতে রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কমলাপুর রেলস্টেশন ও উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটে বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, ১৩ নভেম্বর কেন্দ্র করে সম্ভাব্য যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ঢাকার সব প্রবেশপথে বাড়ানো হয়েছে চেকিং, যাত্রী, লাগেজ স্ক্যানিং এবং সিসি ক্যামেরা মনিটরিং। মেট্রোরেল ও রেলস্টেশনগুলোর প্রবেশদ্বারে বাড়ানো হয়েছে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর।
বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ ও বোর্ডিং পাস যাচাইয়ে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত ব্যবস্থা। বিমানবন্দরের প্রবেশ ও প্রস্থানপথে র্যানডম নিরাপত্তা তল্লাশি করার কথা বলা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, কোনো সুনির্দিষ্ট থ্রেট না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব তথ্য গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সে অনুযায়ী নেওয়া হচ্ছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি। প্রত্যেকটি বিষয় নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। শুধু তাই নয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা এরই মধ্যে শুরু করেছে আভিযানিক কার্যক্রম। ডিএমপির প্রত্যেক ক্রাইম ডিভিশনেই বাড়ানো হয়েছে আভিযানিক টিম। নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে নেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তিগত সহায়তা।
আরও পড়ুন: ভারতীয় দূতকে তলব, গণমাধ্যমের সঙ্গে হাসিনার কথা বলা বন্ধের আহ্বান
