রোমান ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল সোয়া ৩টায় ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় তিনি এ শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে, স্থানীয় সময় দুপুরে রোমে পৌছালে ড. ইউনূসকে স্বাগত জানান ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।
জানা গেছে, শনিবার (২৬ এপ্রিল) পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তার আগে জনসাধারণের শ্রদ্ধা জানাতে মরদেহ শায়িত রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন। তা ছাড়া অন্য বিশ্বনেতাদের মধ্যে ফ্রান্সিসের জন্মভূমি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলি, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেবেন। চার্চের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেবেন ক্যাথলিক চার্চের কার্ডিনাল কলেজের ডিন জিওভান্নি বাত্তিস্তা রে।
প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাজের এক বিশাল অনুরাগী। বিশ্বজুড়ে প্রান্তিক জনগণের জন্য তার উদ্যোগ এবং ‘তিন শূন্য’ দৃষ্টিভঙ্গির (যেখানে থাকবে না কোনো বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও কার্বন নিঃসরণ) প্রতি ছিল তার গভীর সম্মান।
তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে যৌথভাবে রোমে ‘থ্রি জিরো ইনিশিয়েটিভ’-এরও সূচনা করেছিল ভ্যাটিকান সিটি, যা ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ধারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ছিল।
প্রসঙ্গত, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. ইউনূস। পরে রোববার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় দেশের উদ্দেশে রওনা হবে এবং সোমবার ভোরে তার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
৮৮ বছর বয়সী পোপ ফ্রান্সিস চলতি বছরের প্রথম দিকে দুইবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পাঁচ সপ্তাহ হাসপাতালে ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে তিনি হাসপাতাল থেকে ভ্যাটিক্যানের বাসায় ফিরেছিলেন। ইস্টার সানডে উপলক্ষে রবিবার সেন্ট পিটার্স স্কয়ারেও হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু তার পরদিন সকালে ভ্যাটিকান তার মৃত্যুর খবর জানায়।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার ও আ.লীগকে নিষিদ্ধের দাবি
