, | |

মূলপাতা জাতীয়

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড হওয়া নজরুল-সিথির সম্পর্ক নিয়ে যা জানা গেলো


সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নজরুল ইসলাম ও সিথি আক্তার
রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৩২ : অপরাহ্ণ

সৌদি আরবের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক নজরুল ইসলাম ও সিথি আক্তার পবিত্র মক্কা নগরীর মসজিদুল হারামে ক্লিনারের কাজ করতেন। সেখানে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে তারা সেখানে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। ভারতীয় এক নাগরিক তাদের অনৈতিক সম্পর্কের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনার পর ২০২৩ সালে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী নজরুল-সিথিকে গ্রেপ্তার করে।

‘আমরা সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশী’ নামের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

নজরুলের বাড়ি হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আর সিথির বাড়ি গলো টাঙ্গাইলে। তবে তারা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন না।

নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির বলেন, ছেলেকে কলেজে পড়ার সময় পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না। শুনেছি, তারা একই জায়গায় কাজ করত। তাদের মরদেহ দেশে আসছে-এ তথ্যও ঠিক নয়।

তিনি জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পেরেছিলেন নজরুল। এরপর টানা তিন বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন। তবে কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা এখনো জানেন না তিনি।

আব্দুল বাছির বলেন, ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পেয়ে নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

 

তিনি বলেন, সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। ঋণদাতারাও আমাকে চাপ দিচ্ছেন। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলেকে বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এর বিচার চাই।

জানা গেছে, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি দেন ২৫ বছর বয়সী নজরুল।

নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গ্রামবাসী তাদের বাড়িতে আসছেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন। স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন তারা।

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) কার্যকর করা হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলাটি আদালতে পাঠানো হলে বিচারকেরা তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেন।

তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। গত বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই চিঠিতে দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচার কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় খবর প্রকাশের পর বিষয়টি মিশনের নজরে আসে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় বিচারকের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষও রায় বহাল রাখেন।

Rajniti Sangbad


আরও খবর