, | |

মূলপাতা জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানো কূটনৈতিক বিজয়: প্রধান উপদেষ্টা


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রকাশের সময় :১ আগস্ট, ২০২৫ ১১:১০ : পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর হোয়াইট হাউস বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার এ শুল্কহার ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক কমানোর এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি অর্জনের জন্য বাংলাদেশের শুল্ক আলোচনা দলকে অভিনন্দন জানাই। এটি নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিজয়।’

বিবৃতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘শুল্কহার প্রত্যাশার তুলনায় ১৭ পয়েন্ট কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনায়, আলোচকেরা ব্যতিক্রমী কৌশলগত দক্ষতা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় অটল প্রতিশ্রুতির প্রমাণ দিয়েছেন।’

 

বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তারা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম করে জটিল আলোচনার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সফলভাবে অগ্রসর হয়েছেন। এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের তুলনামূলক সুবিধা বজায় রয়েছে, আমরা বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে প্রবেশাধিকারে অগ্রগতি অর্জন করেছি এবং জাতীয় স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এই অর্জন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ক্রমবর্ধমান অবস্থানকে তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন সুযোগ, দ্রুততর প্রবৃদ্ধি এবং টেকসই সমৃদ্ধির পথ উন্মুক্ত করেছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আজ নিঃসন্দেহে আরও উজ্জ্বল। আজকের এই সাফল্য আমাদের জাতীয় দৃঢ়তা ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সাহসী কল্পনার বাস্তব প্রতিফলন।’

প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল বাণিজ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চহারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর বাংলাদেশের আরোপকৃত শুল্কের হার ৭৪ শতাংশ। এ জন্য বাংলাদেশের ওপর ওই পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়। যা আজ ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

পরে ৯ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের ওপর ওই শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। এ সময় শুল্ক নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশকে আলোচনার সুযোগ দেয় ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক নিয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা শুরু হয়েছে গত ২৯ জুলাই। বাংলাদেশের পক্ষে যার নেতৃত্বে ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) দপ্তরের সঙ্গে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ আলোচনার শেষদিন ছিল আজ।

আগের দুই দফা বৈঠকে নানা ইস্যুতে দু’পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পাল্টা শুল্ক কমানোর বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। আজকের আলোচনা শেষে উভয়পক্ষ যৌথভাবে এ বিষয়ে ঘোষণা দেন।

বাংলাদেশকে বর্তমানের গড় ১৫ শতাংশ ও নতুন পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ, অর্থাৎ মোট ৩৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করতে হবে।

আরও পড়ুন: ১৫ শতাংশ কমিয়ে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২০ শতাংশ

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর