, | |

মূলপাতা জাতীয়

‘গুলিতে নিহতদের মৃত্যু সনদ পরিবর্তনের নির্দেশ ছিল’


প্রকাশের সময় :৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১:০৮ : অপরাহ্ণ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহতদের মৃত্যু সনদ পরিবর্তন করতে হাসপাতালের চিকিৎসকদের ‌নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন।

আজ সোমবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘হেফাজতে নির্যাতন ও দায়বদ্ধতা: প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকার’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোশতাক আহমেদ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এতো লাশ ধারণের সক্ষমতাও ছিল না উল্লেখ করে ডা. মোশতাক বলেন, ‘গুলির ঘটনাগুলোকে পাশ কাটিয়ে সাধারণ মৃত্যুর বর্ণনা দিয়ে মৃত্যু সনদ দিতে বলা হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ নির্দেশ দিয়েছিল।’

হেফাজতে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে ডা. মোশতাক বলেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশি মামলায় রিমান্ডের শিকার ব্যক্তিদের দায়িত্বরত চিকিৎসক মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তথাপি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ পরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। বাকিরা শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মানসিকভাবে ট্রমার শিকার হয়ে বেঁচে থাকেন।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক একটি ঘটনা আমি শেয়ার করতে চাই। আজিমপুরে একজন ভদ্রলোক মারা গেছেন গানশট ইনজুরিতে (গুলিতে)। সেটা বলা হইছিল আমাদের, পুলিশের গুলিতে মারা গেছে, এটা ডেথ সার্টিফিকেটে (মৃত্যু সনদ) লেখা যাবে না। লিখতে হবে তিনি এক্সিডেন্টালি (দুর্ঘটনায় মৃত্যু) মারা গেছেন।’

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের দাবিতে গত জুলাইয়ের শুরু থেকে সারাদেশে আন্দোলনে নামেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা। তাদের এই আন্দোলনে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা। পরে সেই হামলা রূপ নেয় হত্যা ও গণহত্যায়।

তৎকালীন সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৬৩১ জন ছাত্র-জনতা প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৯ হাজার ২০০ জনের বেশি।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও সীমান্তে কিশোরকে গুলি করে হত্যা, লাশও নিয়ে গেলো বিএসএফ

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর