বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪ | ১০ শ্রাবণ, ১৪৩১ | ১৮ মহর্‌রম, ১৪৪৬

মূলপাতা দেশজুড়ে

কোটা বিরোধী আন্দোলন: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :৬ জুলাই, ২০২৪ ১২:১৮ : অপরাহ্ণ
কোটা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ। ছবি: সংগৃহীত
Rajnitisangbad Facebook Page

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। ফলে নাটিয়াপাড়া থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কখনোই সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় আন্দোলন করতে চাই না, আমরা পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু আমাদের কিছু করার নাই। কারণ যে পরিমাণ কোটা, তাতে মেধাবীরা দেশে চাকরি না পেয়ে বাইরে চলে যাবেন। দেশে সরকারি চাকরি করার আগ্রহও হারাবেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখাসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘সারা বাংলা খবর দে, কোটাপদ্ধতির কবর দে’, ‘দেশটা নয় পাকিস্তান, কোটার হোক অবসান’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না’, ‘কোটা-বৈষম্য নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘মেধাবীদের যাচাই করো, কোটাপদ্ধতি বাতিল করো’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় কোটাপদ্ধতির ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন।

 

আন্দোলনে আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে কোনো প্রকার কোটা রাখা যাবে না। আমরা কোটা দিয়ে কামলা না, মেধা দিয়ে আমলা চাই। আমাদের এ সোনার বাংলায় কোটা ব্যবস্থার ঠাঁই নেই। দাবি আদায় না হলে আমাদের আন্দোলন চলবে।’

এদিকে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহাল রাখার দাবিতে আজ শনিবার বেলা ৩টায় সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

গতকাল শুক্রবার অনলাইন ও অফলাইনে এই কর্মসূচির পক্ষে প্রচারণা চালান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। এছাড়া রোববার সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গত বুধবার আন্দোলনকারীরা ঢাকার শাহবাগ মোড় দেড় ঘণ্টার মতো অবরোধ করে রাখেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডের সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ৩০ শতাংশ কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি এ সিদ্ধান্তকে হাইকোর্ট গত ৫ জুন অবৈধ ঘোষণা করে।

গত ৪ জুলাই সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত বহাল রাখার আদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সুপ্রিম কোর্ট সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন: নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে শাহবাগ ছাড়লেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

মন্তব্য করুন
Rajnitisangbad Youtube


আরও খবর