শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪ | ৬ বৈশাখ, ১৪৩১ | ৯ শাওয়াল, ১৪৪৫

মূলপাতা রাজধানী

পুরান ঢাকার জনপ্রিয় ইফতার: ‘বড় বাপের পোলায় খায়’


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :২২ মার্চ, ২০২৪ ৯:২১ : অপরাহ্ণ
পুরান ঢাকার জনপ্রিয় ইফতার ‘বড় বাপের পোলায় খায়’
Rajnitisangbad Facebook Page

পুরান ঢাকার চকবাজারের অন্যতম জনপ্রিয় ইফতার-‘বড় বাপের পোলায় খায়’। গালভরা নাম আর প্রচারণায় খ্যাতির তুঙ্গে রয়েছে এটি। হরেক রকমের মশলা আর পদের মিশ্রণে তৈরি হয় ‘বড় বাপের পোলায় খায়’।

‘বড় বাপের পোলায় খায়’র স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘এটি ঢাকার নবাবী খাবার। এই খাবারের স্বাদ না থাকলে মানুষ ৮০০ টাকা দিয়ে কিনতো না।’

অপর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ রাজু বলেন, ‘এই খাবারের ঐতিহ্য আছে বলেই এটিকে এখনও ধরে রেখেছি। এই খাবারের নামটি আমার দাদা রেখেছেন।’

মূলত আঠারো শতকের শেষ থেকেই চকবাজার শাহী মসজিদের সামনে ইফতারের বাজার বসতো। সেখানে শুরুতে কাবাব, পনির, জিলাপির মতো প্রয়োজনীয় খাবারই শুধু মিলতো। সময়ের বিবর্তনে ইফতারের আইটেম বাড়তে থাকে। বড় হতে থাকে চকবাজারের পরিসর।

ঢাকার খাবার নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন গবেষক ও লেখক সাদ উর রহমান। লিখেছেন বই।

বড় বাপের পোলার উৎপত্তির বিষয়ে সাদ উর রহমান বলেন, ‘নবাব বাড়ির ইফতারের আয়োজনে অনেক রকম পদ থাকতো। সব পদের খাবার সবাই খেতো না। পরে অবশিষ্ট খাবারগুলো বাবুর্চির ঘরে চলে যেত। তখন তারা সব পদের খাবারকে মিশিয়ে কিছু মশলা দিয়ে এটি তৈরি করে। তখন সেটি ওই পর্যন্তই সীমিত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলের প্রথম দিকে শেখ সুবা নামের এক ব্যক্তি চকবাজারের ছোট মিনারের সামনে এটি বিক্রি করা শুরু করেন। বর্তমানে যারা বড় বাপের পোলা বিক্রি করেন, তারা কেউই ঢাকার নয়।’

ইতিহাস সংগ্রাহক আজিম বখশ্‌ বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে এই খাবারের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। বাংলাদেশ হওয়ার পর বাহিরের লোকজন আসা শুরু করলে এর নামটি মানুষকে আকর্ষণ করে। সবাই এটি একবারই খায়, দ্বিতীয়বার খায় না।’

এই ব্যবসা কীভাবে শুরু হয়েছিল জানতে চাইলে বড় বাপের পোলায় খায় এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকেই বড় বাপের পোলায় খায় বিক্রি হতো। সে সময় থেকেই আমার পূর্বপুরুষেরা এটির সাথে জড়িত। এটি আমাদের খানদানের ব্যবসা।’

অপর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ রাজু বলেন, ‘৭৮ বছর আগে থেকেই বড় বাপের পোলায় খায় বিক্রি হচ্ছে। তখন আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এটি বিক্রি করেছে।’

পুরো চকে শুধু এদের দোকানেই মেলে এই খাবারটি এবং তা শুধু রমজানেই পাওয়া যায়। প্রশ্ন করা হলো বাকি সময় কী করেন তারা?

মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘রমজান ছাড়া বাকি সময় আমি ফলমূল বিক্রি করে থাকি।’

মোহাম্মদ রাজু বললেন, ‘বাকি সময় আমি প্লাস্টিকের ব্যবসা করে থাকি।’

বলা যায়, আধুনিক মার্কেটিংয়ের অনন্য উদাহরণ চকবাজারের এই ইফতার বাজার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমের বদৌলতে এখানের জনপ্রিয় ইফতারসামগ্রী বড় বাপের পোলায় খায়’র নাম এখন বিশ্বজুড়ে। চকের এই জনকীর্ণ ইফতারের বাজার ঢাকাবাসীর রসনাই মেটায় না, জড়িয়ে রাখে আবেগেও।

মন্তব্য করুন
Rajnitisangbad Youtube


আরও খবর