সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ | ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩০ | ১৫ শাবান, ১৪৪৫

মূলপাতা আঞ্চলিক রাজনীতি

সামনে আরও দুর্দিন আসতে পারে: প্রধানমন্ত্রী


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :১৪ জানুয়ারি, ২০২৪ ৯:৩৪ : অপরাহ্ণ
আজ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
Rajnitisangbad Facebook Page

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ নানা কারণে সামনে আরও দুর্দিন আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন অবস্থায় দেশে যেন খাদ্য সংকট না হয় সেজন্য উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

আজ রোববার বিকেলে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে দেশের মানুষ তার ভোটটা চুরি করলে সে ঠিকই ধরে দেয়। যার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ছিয়ানব্বই সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থেকে ছিয়ানব্বই সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একটি নির্বাচন করেছিল। সেখানে কিন্তু সারা দেশের প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সবাইকে নামিয়ে দিয়ে নির্বাচন করে। কিন্তু সেখানে ভোটার যায়নি। তারপরও সিল মেরে বাক্স ভরে ২২ শতাংশের ওপরে ভোট হয় নাই। জনগণ কিন্তু তখন ওই নির্বাচন মেনে নেয়নি। তারা ভোট চুরি করেছিল। যে কারণে আন্দোলন হয়। এই আন্দোলনের মুখে ছিয়ানব্বই সালের ৩০ মার্চ খালেদা জিয়া পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ভোট চুরির অপরাধে খালেদা জিয়াকে নাকে খত দিয়ে বিদায় নিতে হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত নির্বাচনে (দ্বাদশ জাতীয় সংসদ) অনেক বাধা-বিপত্তি ছিল, অনেক চক্রান্ত ষড়যন্ত্র ছিল। কোনোমতে নির্বাচন যেন না হয়, না হতে পারে-এটাই ছিল আসল চক্রান্ত। অথচ একটা গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নতি হয় না। এটা আমাদের দেশের জন্য প্রমাণিত সত্য।’

২০০৮ সালের পর থেকেই বিএনপি আর ইলেকশনে আসতে চায় না জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপির দুর্নীতি, লুটপাট, মানিলন্ডারিং, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলাসহ নানা কারণে জনগণ তাদের ওপর ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। যার জন্য ইমার্জেন্সি আসে। সেই জঙ্গিবাদ বাংলাভাই সৃষ্টি করে মানুষের শান্তি কেড়ে নিয়েছিল। এরপর ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়। এককভাবে আওয়ামী লীগ ২৩৩টি সিট পেয়েছিল। বিএনপি পেয়েছিল মাত্র ২৩টি সিট। তখন থেকেই তারা ইলেকশনে আসতে চায় না। ইলেকশন আসলেই বানচাল করতে চায়। তাই আমি আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই আপনারা তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্রকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন।’

এবার জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পেরেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবার জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পেরেছে। সত্যি কথা বলতে কী বাংলাদেশে পঁচাত্তরের পরে যে কয়টা নির্বাচন হয়েছে সেখানে কিন্তু জনগণের কোনো ভোট ছিল না। মিলিটারি ডিক্টেটর এসেছে, তাঁরা ভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্রের ‘গ’ বোঝে না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁরা (বিএনপি) এখন আন্দোলন করে গণতন্ত্রের জন্য, যারা গণতন্ত্রের ‘গ’ ও বোঝে না। গণতন্ত্র বানানও করতে পারবে না। তাঁদের আন্দোলন হচ্ছে জীবন্ত মানুষগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে মারা।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন
Rajnitisangbad Youtube


আরও খবর