সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২ | ২০ আষাঢ়, ১৪২৯ | ৪ জিলহজ, ১৪৪৩

মূলপাতা জাতীয়

শ্রদ্ধার ফুলে ভরে উঠেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১:০০ : অপরাহ্ণ

বায়ান্নোর মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। মাতৃভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছিলেন, জাতির সেই বীর সন্তানদের স্মৃতির মিনারে নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। হাতে ফুল আর কন্ঠে একুশের গান নিয়ে শামিল হয় হাজার হাজার মানুষ। রাষ্ট্র থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থাসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

প্রথম প্রহর থেকেই হাজারো মানুষ করোনাভাইরাসের ভয়কে উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয় ভাষা শহীদদের। পরে তা সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খুলে দেয়া হয়।

ব্যানার, ফুল ও পুষ্পমাল্যসহ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর নানান উপকরণ হাতে নিয়ে দীর্ঘলাইনে অপেক্ষা করেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন তারা।

কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গাইতে গাইতে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তারা।

পরাভব না মেনে, যে দিনটিতে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বাঙালি অর্জন করেছে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার, সেই দিন ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

মহামারীর বাস্তবতাতেও জাতি ভুলেনি সে রক্ত ঋণের কথা। ভাষা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানাতে অন্য বছরের মতো একুশের প্রথম প্রহরে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু তাদের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান, সামরিক সচিবরা।

শ্রদ্ধা জানানো হয় স্পিকারের পক্ষ থেকে। এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ফুল দেন সিনিয়র পাঁচ নেতা। এ সময় বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার দাবি জানান ওবায়দুল কাদের। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ প্রস্তাব অনেক আগে দেয়া হলেও আর্থিক কারণে থমকে আছে উদ্যোগ।

শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অন্যান্য মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, সিটি মেয়র, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও কূটনীতিক কোরের সদস্যরা।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় শহীদ মিনার। তবে, স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, এবার সংগঠন পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ জন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে ২ জনের বেশি একসাথে শ্রদ্ধা জানাতে পারছেন না।

ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার প্রশ্নের মীমাংসা করেই শেষ হয়নি। এ আন্দোলন বাংলার মানুষকে দেখিয়েছে বৃহত্তর মুক্তির পথ। একই সাথে এটিও প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, ভাষার মর্যাদা একটি জাতিরও মর্যাদা। প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এই বার্তায় নিয়ে আসে ভাষার আধিপত্য নয়, সব ভাষার মর্যাদা ও স্বীকৃতি কাম্য।


Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

আরও খবর