শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪ | ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ১৫ জিলকদ, ১৪৪৫

মূলপাতা আওয়ামী লীগ

ঢাকায় এসে সংবাদ সম্মেলনে মুখ খুললেন কাদের মির্জা


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১১:০০ : পূর্বাহ্ণ
Rajnitisangbad Facebook Page

সম্প্রতি ভোটের অনিয়ম নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর ব্যাপক আলোচনায় আসা নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা আজ রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো রাজধানীতে এসে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এতে তিনি নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ও ফেনীর সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা করেন। কাদের মির্জা তার ভাই ওবায়দুল কাদের ও পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করেন।

‘নোয়াখালীর অন্যায়, অনিয়ম, টেন্ডারবাজি, চাকরি বাণিজ্য ও অপরাজনীতির’ বিরুদ্ধে জাতীয় প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই কাদের মির্জা সরকারি কর্মকর্তারা লুটপাট করছে দাবি করে বলেন, ‘কিছু কর্মকর্তা মনে করেন আওয়ামী লীগকে তারা ক্ষমতায় এনেছেন। এ জন্য তারা যা ইচ্ছা তা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি কিছু কর্মকর্তা মনে করে তারা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় এনেছে। যা ইচ্ছা তা করছে। লুটপাট করে খাচ্ছে দেশকে। এটা শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এটা শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ পারবে না। দুর্নীতি শেখ হাসিনাকে বন্ধ করতে হবে। শেখ হাসিনাকে ভোটের রাজনীতিতে একটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। এদেশের প্রতিটি মানুষ যাতে ভোট দিতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

কাদের মির্জা অভিযোগ করে বলেন, ‘নোয়াখালীতে একরামকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাকেও হত্যার জন্য নিজাম হাজারী এবং দিদার, স্বপন মিয়াজি পরিকল্পনা করেছে। আমার পরিবারকে হত্যা ও উচ্ছেদ করার জন্য একরাম চৌধুরী ৫০ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ‘রাষ্ট্রপতি হওয়ার আশায় সন্ত্রাসী ও হত্যাকারীদের লালন করছেন তার ভাই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পদপদবীর জন্য মাথা নত করতে পারে। তিনি প্রেসিডেন্ট (রাষ্ট্রপতি) হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তাই নোয়াখালীর সন্ত্রাসী ও হত্যাকারীদের পক্ষে তিনি কথা বলেন। কিন্তু আমি আবদুল কাদের মির্জা একদিনের জন্য তাকে ছেড়ে দেব না। তার বিরুদ্ধে কথা বলে যাব। আমি অস্ত্রবাজির রাজনীতি করি না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দলের জন্য ত্যাগ ও সংগ্রামের পরও তাদের পরিবারকে রাজাকার বলা হচ্ছে। প্রশ্ন রাখতে চাই, ওবায়দুল কাদের কি অপরাজনীতির হোতাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তা না হলে কেন একটা কেন্দ্রীয় নেতা প্রতিবাদ করেনি।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘আমার মুখ বন্ধ করার জন্য ওবায়দুল কাদের সাহেব ষড়যন্ত্র করছেন। চক্রান্ত করছেন। করোনার কারণে ওবায়দুল কাদের বাড়িতে যেতে পারে না। কিন্তু নিজাম হাজারী ও স্বপনের কী করোনা নাই? তারা কিভাবে তার বাসায় গিয়ে ফুল দিয়ে এসে নোয়াখালীতে ভোট ডাকাতি করে গেল?’

নোয়াখালীতে চাকরি বাণিজ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা গরিবকে পুলিশে চাকরি দিয়ে একরাম চৌধুরী পাঁচ লাখ টাকা নেন। গরিব প্রাইমারি স্কুলের পিয়নকে চাকরি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা নেন। প্রশাসনকে তারা নানাভাবে ব্যবহার করে এই কাজগুলো করছে।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘নোয়াখালীতে সচিব (ইউনিয়ন পরিষদ সচিব) দিছে ১০ জন। এই নিয়োগে একরাম চৌধুরী, সেতু বিভাগের সচিব বেলায়েত ও সোহেল বাণিজ্য করেছে। এখনো সেখানে চাকরি বাণিজ্য চলছে। একরাম চৌধুরীর অস্ত্রে ২৪টি মায়ের বুক খালি হয়েছে।’

পানিসম্পদ উপমন্ত্রীর এনামুল হক শামীমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটা টেন্ডার হয়েছে। সেই টেন্ডারটা উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের নির্দেশে এবং নোয়াখালীর একরামুল করিম চৌধুরী এবং সেখানকার উপজেলা চেয়ারম্যান জেহানের নিয়ন্ত্রণে ফেনীর লিফটন এই কাজ কিনে নিয়েছে। আমি বাধা দিয়েছি, বলেছি পুনঃটেন্ডার দিতে। তারা অন্যদের সিডিউল ফেলতে দেয় না। প্রত্যেকটা বিভাগে এটা চলছে। এখনো করে যাচ্ছে। লিফটন আমাকে বলে আপনার সাথে কথা আছে। টাকার লেনদেন করতে চায়। আমি কি টাকার রাজনীতি করি।’

এই প্রসঙ্গে কাদের মির্জা আরও বলেন, ‘এনামুল হক শামীম কেন আমাকে কল করে নেগোশিয়েশন করতে বলল? এতে কি বোঝা যায়? তারা আমাকে টাকা দিতে চায়? এ দেশের মানুষ জানে এনামুল হক শামীম কি করেন। কত হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।’

নোয়াখালীতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘নোয়াখালীতে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। যারা কাজ পেয়েছে তাদের রিমান্ডে আনেন। কত কোটি টাকা তাদের কাছ থেকে নিয়েছে? একটা কাজেরও মান নাই। আজকে কাজ করা হয়, কাজের কোনো মান নাই। ছয় মাস আগে কাজ করা হয় তিন মাস পরে একই অবস্থায় ফিরে যায়।’

গাড়ি বহরে হামলা ও হত্যাচেষ্টা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবগতি করার বিষয়ে কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি একটা দরখাস্ত দিয়েছি, এই ব্যক্তি আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বলেছেন আমি পুলিশকে বলে দিচ্ছি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজকে পর্যন্ত আমার সাথে কি কেউ দেখা করেছে? সেই দরখাস্তের কী সমাধান। কী বিচার আপনারা করেছেন?’

সংবাদ সম্মেলন যাতে না করেন এজন্য গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের দিয়ে ধমক দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা গাড়ি বহরে আক্রমণ করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তাদের পরিবারকে যারা রাজাকার পরিবার বলেছে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

মন্তব্য করুন
Rajnitisangbad Youtube


আরও খবর