fbpx





বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২ | ২১ আশ্বিন, ১৪২৯ | ৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

‘ স্বৈরশাসক চাই না, চাই গণতন্ত্র’–সু চির মুক্তির দাবিতে মিয়ানমারে বিক্ষোভ


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১১:৪৫ : পূর্বাহ্ণ

অং সান সু চিসহ রাজবন্দিদের মুক্তি ও গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার দাবিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী মিয়ানমারের রাজপথে নেমে এসেছেন। সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে তারা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

আন্দোলনকারীরা সু চির দল এনএলডির প্রতীকের সঙ্গে মিলিয়ে লাল রঙের বেলুন নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা স্লোগান দেন, আমরা সামরিক একনায়ক চাই না, চাই গণতন্ত্র।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, লাল বেলুন হাতে নিয়ে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে নেমেছে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছে, আমরা সামরিক স্বৈরশাসক চাই না। আমরা গণতন্ত্র চাই।

বিবিসি জানিয়েছে, নারী, পুরুষ ছাড়াও বিক্ষোভে বহু তরুণ অংশ নিয়েছে। তাদের হাতে আটক নেত্রী অং সান সু চির ছবি। অনেকের প্ল্যাকার্ডে লেখা, আমাদের ভোটকে সম্মান করুন।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে মিও উইন (৩৭) নামে এক বিক্ষোভকারী বলেছেন, আমাদের বিক্ষোভ চলবে এবং আমরা গণতন্ত্র না পাওয়া পর্যন্ত দাবি থেকে সরবো না।

মিয়ানমারে গত সোমবারের সেনা অভ্যুত্থানের পর প্রথমে গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্লক করা হয়। এরপর গত শুক্রবার ব্লক করা হয় টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম। সাইটগুলো ব্লক করার পরও অনেকে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কসের (ভিপিএন) মাধ্যমে সেগুলোতে ঢুকছিলেন। এবার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হলো।

ইন্টারনেট বন্ধের পর মিয়ানমারে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘নেটব্লকস ইন্টারনেট অবজারভেটরি’। এর প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তবে বিক্ষোভ সহিংস ছিল না। ইয়াঙ্গুনের সিটি হল এলাকায় দেখা গেছে, পুলিশ সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান নিয়েছে। আর বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

কারখানার শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ বিক্ষোভকারীরা সু চিসহ সামরিক সরকারের হাতে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দাবি করেন। তারা ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় মিছিল নিয়ে বিক্ষোভ করেন। বাসগুলো হর্ন বাজিয়ে বিক্ষোভে সমর্থন প্রকাশ করেন। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের হাতে গোলাপ ও পানির বোতল তুলে দিয়ে নতুন শাসনব্যবস্থার প্রতি সমর্থন না দিয়ে বিক্ষোভে সমর্থন দেওয়া আহ্বান জানান।

এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমার সেনাবাহিনী গত সোমবার দেশটির নির্বাচিত নেতা অং সান সু চিকে বন্দি করার পর ক্ষমতা দখল করে।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে আমদানি-রপ্তানি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে দেশটির পুলিশ। ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সু চিকে আটকে রাখার জন্য বলা হয়েছে। রাজধানী নেপিদোর একটি থানা থেকে প্রাপ্ত নথিতে বলা হয়েছে, সু চির বাসভবন অনুসন্ধান করে সামরিক কর্মকর্তারা কয়েকটি রেডিও খুঁজে পেয়েছেন, যেগুলো অবৈধভাবে আমদানি করে বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর থেকেই পুলিশের এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অনলাইন সরব হয়ে ওঠেন অনেকে। এ ছাড়া দেশটির সামরিক জান্তার অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের সোচ্চার অবস্থান ক্রমেই আরো জোরদার হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের ওপর খড়গহস্ত হচ্ছে মিয়ানমার জান্তা।

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স।


আরও খবর